দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি উপদ্রুত এলাকার মেয়েদের কাছে শান্তির দূত হয়ে পৌঁছে যেতেন তিনি। একসময় দেশে তাঁর প্রাণসংশয় দেখা দিয়েছিল। বছরখানেক আগে ভারত ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকায়। এখনও সেখানেই থাকেন। এবার অত্যন্ত সম্মানজনক পলিটকভস্কায়া পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। তাঁর নাম বিনালক্ষ্মী নেপ্রাম । গতবছর পলিটকভস্কায়া পুরস্কার পেয়েছিলেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ।
আনা পলিটভস্কায়া ছিলেন রাশিয়ান সাংবাদিক। চেচনিয়ার যুদ্ধে রুশ বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সাহসী রিপোর্টিং করেছিলেন। ২০০৬ সালে মস্কোয় নিজের ফ্ল্যাটে খুন হন। তার পরে 'রিচ অল উইমেন ইন ওয়ার' নামে এক সংগঠন প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্তে যে নারী মানবাধিকারকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের এই পুরস্কার দেয়।
বিনালক্ষী মণিপুরের মেয়ে। দক্ষিণ মণিপুরের এক গ্রামে একবার ২৭ বছরের এক যুবক খুন হয়। বিনালক্ষী নিহতের স্ত্রী রেবেকা আখমকে সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছিলেন যাতে সে নিজে কাজ করে খেতে পারে। তার পরে তিনি অসহায় মহিলাদের জন্য গড়ে তোলেন এক সংগঠন। তার নাম মণিপুর উইমেন গান সারভাইভারস নেটওয়ার্ক। সেই সংগঠন ২০ হাজার মহিলাকে সাহায্য করেছে। যে মহিলারা ধর্ষিত বা যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, তাঁরাও ওই সংগঠনের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন ।
বিনালক্ষীর সঙ্গে যৌথভাবে ওই পুরস্কার পাচ্ছেন স্বেতলানা অ্যালেক্সেইভিচ । তিনি ২০১৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত নারীদের অবস্থা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছিলেন। চেরনোবিলে দুর্ঘটনার সময় এবং আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণে মানুষের কী অবস্থা হয়েছিল, তা নিয়েও বই লিখেছেন।