
শেষ আপডেট: 14 November 2023 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোমবারের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে জয়নগর থানার পুলিশ বারুইপুর থানায় রেখেছিল তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন খুনে ধৃত শাহরুল শেখকে। মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুর থানা থেকে তাকে আদালতে পেশ করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নাসির ও বড়ভাই নামে দুজনের কথা জানায় ধৃত দুষ্কৃতী। একইসঙ্গে সইফুদ্দিনকে লক্ষ্য করে সে গুলি চালায়নি বলেও দাবি করে।
পুলিশের দাবি, শাহরুলের বাড়ি ডায়মন্ডহারবারের নেতড়া এলাকায়। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় একাধিকবার নাম জড়িয়েছিল তার। তবে পুলিশের জেরায় শাহরুল জানিয়েছে, একটা কাজ আছে বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনিসুর রহমান নামে একজন। কথা এগোনোর পর শাহরুলকে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করের বাড়ির কাছাকাছি একজনের বাড়িতে চারদিন ধরে রেখেছিল আনিসুর। সইফুদ্দিনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছিল তাকে। এর জন্য এক লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল।
শাহরুল জানিয়েছে, এই কাজের জন্য মোট চারজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার কথায়, “সইফুদ্দিনের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই এলাকার মানুষ আমাকে আর সাহাবুদ্দিনকে ধরে পেলে। সাহাবুদ্দিনকে পিটিয়ে মারে জনতা। গণপিটুনিতে আমিও জখম হই। তবে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আমি খুন করিনি। যে কাজের কথা বলে আমাকে নিয়ে আসা হয়েছিল, তার কোনও টাকাও এখনও পাইনি।” কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সে জড়িত নয় বলেও দাবি করে শাহরুল।
আদালতে পেশ করে জয়নগর থানার পক্ষ থেকে তাকে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে পাওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। আদালতে অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তার কোনও শারীরিক সমস্যা আছে কিনা জানতে চান। জবাবে শাহরুল জানায় জনগণের মার খাওয়ায় তার শরীর খুব খারাপ। এরপরেই তদন্তকারী অফিসারকে সঠিক সময়ে মেডিকেল করানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলেও লকআপে যাতে কোনও অত্যাচার না হয় তাও দেখতে বলেন।