
হুমায়ুন কবীর (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 16 April 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বেসামাল হুয়ায়ুন কবীর। এবার মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানকে 'ফালতু লোক' বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, সামশেরগঞ্জ-ধুলিয়ানে ভাঙচুরের ঘটনার যে যুবদের ঘারে দায় চাপানো হচ্ছে, তার কোন ভিত্তি নেই। তাঁর কথা অবশ্য গ্রাহ্য করতে রাজি নন আবু তাহের।
হুমায়ুন বলেন, 'উনি ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা বা এই ধরনের যাঁদের কথা বলেছেন বা তৃণমূলের ইয়ং ছেলেরা, ওঁদের জন্যই তুমি দু-দুবার এমপি হয়েছো বন্ধু, তুমি কোথায় ছিলে ঝামেলার সময়? বর্ডার এলাকার এমপি হিসেবে তোমার কী দায়িত্ব? উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে তুমি হাইলাইট হতে চাইছ?'
হুমায়ুন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হুঁশিয়ারিও দেন সাংসদকে। বলেন, 'এই মন্তব্যের পর আগামীদিনে এমপি ভোটে দাঁড়াও। ওই সব পরিযায়ী শ্রমিকরাই তোমাকে ভালভাবে আদর করে দেবে। ভাল করে সযত্নে তোমায় বাড়িতে ঢুকিয়ে দেবে। নওদার বাড়িতে বসে থাকবে।'
তৃণমূল যুব নেতৃত্ব বা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেননি বলে অবশ্য দাবি করেন আবু তাহের। তিনি স্পষ্ট জানান, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে শুধুমাত্র শান্ত থাকতে বলেছেন সকলকে। কোনওরকম বিভ্রান্তিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
সাংসদের কথায়, 'এই নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়, আমি কোনও যুবকদের কথা বলিনি। যারা ভাঙচুর করেছে তারা কাজটা ঠিক করেনি। অন্যায় করেছে। এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষকে যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। বলেছি, এই পথ থেকে ফিরে আসুন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখুন, কোনও গুজবে কান দেবেন না।'
কেন বলেছেন এমন? সাপেক্ষে যুক্তিও দেন তৃণমূল নেতা। বলেন, 'আমার মনে হয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই আবেদন মানুষের কাছে রাখার যৌক্তিকতা আছে। উনি যেকথা বলছেন, ফালতু লোক এই সেই, উনি জানেন, বাংলার মানুষ জানে, উনি কী ধরনের মানুষ, কটা দল পরিবর্তন করেছে, ওঁর কথার কোনও উত্তর দেওয়ার দরকার আছে বলে, আমার মনে হয় না।'
হুমায়ুনের বর্ডার এলাকা নিয়ে করা মন্তব্যের পাল্টা দেন আবু তাহের। জানান, দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি সচেতন, কারও থেকে পরামর্শ নেওয়ার প্রযোজন নেই। বর্ডার এলাকার মানুষ তাঁকে ভালভাবে চেনে, জানে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তিনি আছেন, আগামদিনেও থাকবেন। তাই বলে, কোনও মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা তিনি করেননি। যাঁরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের এসব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র। এই অধিকার তাঁর আছে বলে ফের মনে করিয়ে দেন এবং সেই সূত্রেই পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।
তৃণমূলের দুই নেতার এই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে চাইছে বিরোধীরা। অনেকেই এই নিয়ে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে। যদিও হুমায়ুন পাল্টা কোনও মন্তব্য করেননি।