
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 25 February 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের শেষ বর্ধিত কর্মিসভা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। তার পর থেকে গত এক বছরের বেশি সময়ে কোনও বড় কর্মিসভা হয়নি। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরের বৈঠক নিয়ে (Trinamool meeting) তাই দলের মধ্যেও কৌতূহলের পারা চড়ছে।
তার কারণ বহুবিধ। এক, প্রায় দেড় বছর আগে যে শেষ কর্মিসভা হয়েছিল, তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee) ছিলেন না। মঞ্চে বা সভাস্থলে তো নয়ই, নেতাজি ইনডোরের আশপাশে তাঁর কোনও ছবি বা পোস্টারও ছিল না। দুই, এবারের সভাকে ঘিরে রদবদলের চিন্তাও অনেককে ভাবাচ্ছে।
এবারের সভায় অভিষেকের থাকা বা না থাকার সম্ভাবনা নিয়েও দলে জল্পনা ছিল। তার সঙ্গত প্রেক্ষাপটও রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে মমতা (Mamata Banerjee) ও অভিষেকের মধ্যে আপাতভাবে একটা মতান্তরের ছবি দেখা গিয়েছে। একুশের ভোটের পর থেকে সংগঠন কার্যত একা হাতে দেখছিলেন অভিষেক। কিন্তু আরজি কর কাণ্ড উত্তর সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এও বলতে শোনা গেছে যে, তিনিই শেষ কথা। তিনিই দল চালাবেন।
তবে কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকবেন। এবং সেই কারণে দুটি ফুলের তোড়ার আয়োজন রাখতে বলা হয়েছে। ছাব্বিশের ভোটের দিকে তাকিয়ে দুজনেই সাংগঠনিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলবেন। তাঁদের বক্তৃতার অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে পারে, ভোটার তালিকায় ভুয়ো তথা ভূতুড়ে ভোটার।
তৃণমূলে সাংগঠনিক রদবদল অনেক দিন ধরেই বকেয়া রয়েছে। তা সে অঞ্চল, ব্লক বা জেলা স্তরে হোক বা মন্ত্রিসভায়। দলের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন তথা ছাত্র, যুব, শ্রমিক সংগঠনের রদবদলের বিষয়টিও বকেয়া রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, নেতাজি ইনডোরের মঞ্চ থেকেই এক প্রস্ত রদবদলের ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, দিদি কী করবেন তা স্পষ্ট না হলেও এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে তৃণমূলে পোড় খাওয়া প্রৌঢ় নেতারা মনে করছেন, নেতাজি ইনডোরে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী, নেতার সামনে হয়তো এমন কোনও ঘোষণা হবে না। কর্মিসভা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা হবে।
আরও একটি ঘটনা এখানে তাৎপর্যপূর্ণ। ফেব্রুয়ারির শেষে তথা ২৭ ফেব্রুয়ারি এই সভা করার ব্যাপারে গোড়ায় আপত্তি ছিল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর। কারণ, ২৬ তারিখ শিবরাত্রি। জেলায় অনেক নেত্রী বা নেতা ওই দিন উপোস রাখেন। তার পর দিনই সভা করা ঠিক হবে না বলে মত ছিল তাঁর। কিন্তু গত শুক্রবার রাতেই কালীঘাটে স্থির হয়ে যায়, ২৭ তারিখেই সভা করতে হবে। শনিবার বারবেলায় দিদির সঙ্গে অভিষেকের দেখা হয়। তার পরই মিলন সমিতির মাঠে বসে থাকা সুব্রত বক্সী-ফিরহাদ হাকিমদের কাছে ফোন আসে, সভা হবে বৃহস্পতিবারই। এখন তারই তোড়জোড় চলছে।