
শেষ আপডেট: 25 June 2023 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ভারতীয় সময়ের মধ্যরাতে মস্কোভা নদীর তীরে মহাসংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। উপর উপর সাহসী মুখ দেখাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্রেমলিন হয়তো কাঁপছিল। কারণ, ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের ভাড়াটে সেনা প্রায় মস্কোর দোড়গোড়ায় পৌঁছে গেছিল। গোটা বিশ্ব তখন তাকিয়ে রয়েছে রাশিয়ার দিকে। কী হয় কী হয়! রাশিয়ায় কি ফের মহানাটকীয় পতন ঘটতে চলেছে। জারেদের সময় থেকে যাঁরা ধনকুবের, যাঁদের বিজ্ঞান চেতনা, স্বজাত্যাভিমান আকাশ ছোঁয়া তাঁরা এহেন গৃহযুদ্ধে শেষ হয়ে যাবে?
তার পর হঠাৎ কী হল শুরুতে বোঝা যায়নি, দেখা যায় প্রিগোজেনি জানিয়েছেন, রক্তপাত এড়াতে তাঁর সেনাবাহিনী ফিরে যাচ্ছে। যুদ্ধে বিরতি দিয়েছে।
টানটান এই ঘটনাপ্রবাহের পরের অংশটা এতক্ষণে দুনিয়া জেনে গেছে। কিন্তু এই ভয়াল ঘটনা নিয়ে মস্করা করলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও পোড় খাওয়া আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। আসলে সিঙ্ঘভি কেন এই টুইট করেছেন, সেই কারণটাই সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং (মজাদার নয়)।
অভিষেক লিখেছেন, ওয়াগনার মস্কোকে পরাস্ত করতে চলেছিলেন। পুতিনও পদত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন। তারপরই ইজিপ্ট থেকে ফোন আসে এবং সব ফের ঠিকঠাক হয়ে যায়। টিপ্পনি করে অভিষেক এও বলেছেন, “অহঙ্কার করার দরকার নেই, তবে এটাই হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন দিনের মার্কিন সফর সেরে শনিবার ইজিপ্টে পৌঁছেছেন। অভিষেক তাঁর টুইটে একবারও প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম করেননি। কিন্তু ইজিপ্ট থেকে ফোন বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন তা নিয়ে সংশয় নেই।
কিন্তু এটা কেন করেছেন অভিষেক?
গত কয়েক মাস ধরে সোশাল মাধ্যমে কংগ্রেসের গতিবিধি দেখলে বোঝা যাবে, নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে ধারাবাহিক মস্করা শুরু করেছেন অন্য দলের নেতা-কর্মীরা। কর্নাটক জয়ের পর তা বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজনীতি আসলে ধারণার লড়াই। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীকে মধ্যমণি করে বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করেছিল। তা হল, মোদী ক্ষমতায় এলে তবেই ভারতে আচ্ছে দিন আসবে। তাঁর ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতি। তিনি চিনকে লাল চোখ দেখাতে পারেন। তিনি থাকলে সব মুশকিল আসান। মোদী মাহাত্ম্য প্রচারের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে 'পাপ্পু' বলে প্রতিপন্ন করতে নেমেছিল মোদী বাহিনী।
বিজেপির সেই প্রচার ছিল সফল। এবার মোদীকে সেই অস্ত্রেই ঘায়েল করতে চাইছে কংগ্রেস। তাঁকে নিয়ে মস্করা করা শুরু করেছে। আর সেই কারণে কখনও পুরনো ফুটেজ তুলে ধরে দেখাচ্ছে, মোদী কখন ভুল ইংরেজি বলেছেন। মোদী কবে বলেছিলেন যে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর তুইতোকারির সম্পর্ক। কিংবা কবে বলেছিলেন, যে রাস্তার ড্রেনের গ্যাস দিয়ে চাওয়ালা চা বানাচ্ছিলেন ইত্যাদি।
কারণ, কংগ্রেস মনে করছে মোদী ক্ষমতায় আসার আগে যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন তার কোনওটা পূরণ করতে পারেননি। দেশে আচ্ছে দিন আসেনি। রান্নার গ্যাসের আগুন দাম, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কমেছে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়নি, দেশে বড় বিনিয়োগ আসেনি ইত্যাদি। আর সেই সব ব্যর্থতা চাপা দিতে আরও চড়া বিভাজনের খেলায় নেমেছে গেরুয়া শিবির।
কংগ্রেসের কৌশল আন্দাজ করে পাল্টা প্রচারে নেমেছে বিজেপিও। আমেরিকায় রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কেন্দ্র করে কেমন উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। গোটা বিশ্ব তাঁকে কীভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে ইত্যাদি। পাশাপাশি কংগ্রেস জমানার কালো প্রহর স্মরণ করাতে নেমেছেন অমিত মালব্যরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নাটক জয় কংগ্রেসকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তা ছাড়া তৃণমূল, সংযুক্ত জনতার মতো আঞ্চলিক দলগুলিও এখন বিজেপির মুণ্ডপাত করতে নেমেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে রোজ এবং ধারাবাহিক সমালোচনা করে যেতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। তাঁকে নিয়ে মিথটাই তছনছ করে দিতে হবে।
এখন দেখার এই ধারণা তৈরির খেলায় শেষমেশ কে জেতে।
মুকেশ আম্বানি আর আনন্দ মাহিন্দ্রা বাস মিস করে উবর বুক করতে যাচ্ছিলেন, ভাগ্যিস সুনীতা ছিল