
শেষ আপডেট: 9 October 2023 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ পর্যন্ত নতুন কোনও শর্ত মাথা না তুললে সোমবার বিকেল ৪টেয় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। একশ দিনের কাজে বকেয়া পাওনা নিয়ে তৃণমূল গণ পিটিশন তুলে দেবে রাজ্যপালের হাতে। তার মধ্যে দিয়ে এ যাত্রায় আন্দোলন আপাতত শেষ হবে।
তবে বিকেলের সেই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের আগেই আন্দোলনের ‘সাফল্য’ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে অভিষেক আন্দোলনে নেমেছিলেন, তা অনেকাংশে সফল।
কেন এ কথা মনে করছেন তাঁরা?
পঞ্চায়েত ভোটের আগে নবজোয়ার যাত্রা শুরু করেছিলেন অভিষেক। সেই সময়ে তৃণমূলের নিজস্ব একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, একশ দিনের কাজে টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে গ্রাম বাংলায় অসন্তোষ রয়েছে। ৯৭ শতাংশ মানুষের ধারণা ছিল একশ দিনের কাজের টাকা রাজ্য সরকারই বন্ধ করেছে। এই সমীক্ষার ফলাফলে অশনিসংকেত দেখে তৃণমূল। তার পরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে দুটি পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করে।
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেক ঘোষণা করে দেন, একশ দিনের কাজের বকেয়া টাকা আদায়ে দিল্লিতে ধর্না হবে। আবার ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, বাংলা নিজেই একশ দিনের কাজে টাকা বরাদ্দ শুরু করবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে টার্গেট বেঁধে দিয়ে একশ দিনের প্রকল্পে কাজ দিতে শুরু করে দিয়েছে নবান্ন।
তৃণমূল সূত্রে দাবি, বকেয়ার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন ও ধর্নার পর পুনরায় একটি সমীক্ষা করানো হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গ্রাম-বাংলার ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বুঝতে পারছেন, একশ দিনের টাকা মোদী সরকারই আটকে রেখেছে।
তৃণমূলের এক রাজ্য নেতার মতে, এই বার্তাটা মানুষের কাছে পৌঁছনো জরুরি ছিল। না হলে তৃণমূল সম্পর্কে গ্রামের মজুর ও তাদের পরিবারের ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছিল।
তৃণমূলের এই কৌশল আন্দাজ করে কলকাতায় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে ডেকে এনেছিল রাজ্য বিজেপি। তারা আবার পাল্টা বোঝাতে চাইছে যে একশ দিনের টাকা চুরি হয়েছে। দিল্লি যে টাকা পাঠাচ্ছে তা লুঠ করেছে তৃণমূল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সবটাই ধারণা তৈরির লড়াই তথা পারসেপশন ব্যাটেল। তৃণমূল বোঝাতে চাইছে, কেন্দ্র বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বঞ্চনা করা হচ্ছে। আর বিজেপি বোঝানোর চেষ্টা করছে, বঞ্চনার প্রশ্নই নেই। তবে চুরি আটকাতে হবে। এই লড়াই আপাতত চলবে।