.jpeg)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 13 February 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর রাজ্য বাজেট নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুললেন, "কারা বলছে বাংলার বাজেট দিশাহীন?"
এরপরই কেন্দ্র বনাম রাজ্য বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে এবং দুই সরকারের পারফরম্যান্সের উল্লেখ করে অভিষেক বললেন, "বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জনমুখী, কেন্দ্রের মতো ভাঁওতাবাজি করে না।"
বুধবার বাংলার বাজেট পেশ হয়েছে। কিন্তু গতকাল দিনভর বাজেট নিয়ে অভিষেককে টুঁ শব্দটিও করতে দেখা যায়নি। যেন আহ্বানও নেই, বিসর্জনও নেই। পরিবর্তে নিজের সেবাশ্রয়ের চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক জল্পনা সামনে আনা হচ্ছিল। এদিন সাতগেছিয়ার সেবাশ্রয় কেন্দ্র থেকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই সব জল্পনারও জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের অলিখিত নাম্বার টু।
অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের বাজেটের ক্ষেত্রেও তিনি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দেননি। ভাল করে বাজেট পড়ে, বুঝে মন্তব্য করেছিলেন। অর্থাৎ স্রেফ বলতে হয় বলে বলা বা বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা নয়, বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পড়ার পড়েই তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন এদিন তা ফের মনে করিয়ে দেন অভিষেক।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, "বিজেপির ১১ বছরের আমলে দেশের বেকারত্ব কোন জায়গায় পৌঁছেছে শ্বেতপত্রটা প্রকাশ করুক, তাহলেই তো বোঝা যাবে ওরা কী কাজ করছে। আর গত ১৪-১৫ বছরে বাংলায় যে বেকারত্ব কমেছে, সেটা তো আমরা তথ্য দিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করেছি।"
এরপরই এবারের রাজ্য বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চায়েত, শিক্ষা-সহ প্রতিটি দফতর ধরে ধরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি, গঙ্গাসাগর সেতু, পথশ্রীর জন্য ১৫০০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে চা বাগান, জঙ্গলমহলের জন্য ৭০০-৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। এর থেকেই তো স্পষ্ট কারা কাজ করতে চায়, আর কারা ভাঁওতা দেয়। কেন্দ্রের বাজেট তো ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়।
কথার ফাঁকে অভিষেক এও জানিয়ে দেন, বাংলার বাজেট তিনি না পড়েই বলছেন। অর্থাৎ বাজেটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই ওয়াকিবহাল। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মতান্তর নিয়ে যে জল্পনা চলছে তা আসলে ঠিক নয়, সেটাই পরোক্ষে বোঝাতে চেয়েছেন অভিষেক। অপর একটি মহলের মতে, বিতর্কের মুখে দেরিতে হলেও সাংবাদিক বৈঠক করলেন তিনি।
আয়করে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রের ছাড়ের ঘোষণাকে কটাক্ষ করে অভিষেক এও বলেন, "জল ছাড়া সবেতেই তো জিএসটি! মুখে বলছে ৮০ হাজার টাকা রিবেট দিচ্ছে, এদিকে জিএসটি বাবদ ৯৮ হাজার টাকা নিয়ে নিচ্ছে। এই হচ্ছে বিজেপি সরকার!"