
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 1 April 2025 20:20
ইদ উল ফিতরে বরাবরই মহা নাগরিক ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে বড় দাওয়াত থাকে। এবারও ছিল। সোমবার সন্ধেয় সমাজ মাধ্যমের পাতায় পাতায় তার ঝলক দেখা গিয়েছে। আলোর রোশনাই, খাওয়া দাওয়া আর অতিথি অভ্যাগতদের জমকালো উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশ।
আড্ডার মেজাজে ছিলেন মেয়র। ববি পরেছিলেন, একটি অফ হোয়াইট কুর্তা আর পাজামা। কুর্তার গলার কাছে এম্ব্রয়ডারি করা বাকিটা সেল্ফ ডিজাইন। আর অতিথিদের অভ্যর্থনা সামলেছেন তাঁর মেয়ে তথা মহিলা তৃণমূলের সম্পাদক প্রিয়দর্শিনী হাকিম। প্রিয়দর্শিনী বরাবরই ফ্যাশন সচেতন। তিনি পরেছিলেন একটি ম্যাজেন্টা রঙের এম্ব্রয়ডারি করা চুড়িদার। হাতে বহুবর্ণ চুড়ি।
আর এসবের মধ্যেই অনন্য উপস্থিতি দেখা গেল এক জনের। তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার ইদের নমাজে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রেড রোডে গিয়েছিলেন অভিষেক। সন্ধেয় দলের প্রবীণ নেতা তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে ইদের দাওয়াতে যাওয়াও ছিল আপাতদর্শনে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এর মধ্যে অন্য অর্থ খোঁজা হয়তো অনর্থক ছিল। কিন্তু অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, রাজনীতি কখনওই সরলরেখায় চলে না। হয়তো সেই কারণেই ববির বাড়িতে অভিষেকের উপস্থিতিও এক নয়া জল্পনার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূলে।
গত প্রায় চার বছর ধরে ফিরহাদ ও অভিষেকের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে বলে অনেকের ধারণা। বাইরে থেকে কোনও অশান্তি নেই। কিন্তু একুশের নির্বাচনের পর অভিষেক যেভাবে তৃণমূলে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি বাস্তবায়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন, সংঘাতের শুরু তখন থেকেই। এক প্রকার খোলাখুলিই সেই নীতির বিরোধিতা করেছিলেন ফিরহাদ। তিনি দাবি করেছিলেন, দিদি এমন কোনও শর্তের কথা তাঁকে বলেননি।
তার পর থেকে মেয়রের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্কে শৈত্য চলছিল বলেই আম ধারণা। এমনকি ক্যামাক স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে লোকসভা ভোটের পর থেকেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, কেন কোনও নেতা এক দফতরে প্রায় একটানা ১৩ বছর থাকবেন। অন্যদের দফতর বদল হলেও তাঁর দফতর বদল হবে না কেন? সেই প্রশ্নের নিশানা কে ছিলেন তা বলাবাহুল্য।
প্রেক্ষাপট যখন এমনই তখন ইদের সন্ধেয় মেয়রের বাড়িতে অভিষেকের উপস্থিতি নিয়ে অনেকেই কৌতূহলী। কেউ মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাননি, তাই হয়তো অভিষেককে যেতে বলেছেন। কেউ বা মনে করছেন, দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে এও এক নয়া মোড়। তৃণমূলের মধ্যে ইদানীং এও আলোচনা রয়েছে যে দলের তিন মন্ত্রী ও এক নেতার উপর অভিষেক বিশেষ প্রীত নন। ফিরহাদের সঙ্গে এই নয়া সখ্য কি সেই উদ্দেশেও কোনও বার্তা কিনা সে ব্যাপারেও কৌতূহল বাড়ছে।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক নেতার কথায়, এটা সত্যিই নয়া সখ্য, নাকি নিছক সৌজন্য তা স্পষ্ট হতে সময় লাগবে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেই ফিরহাদ হাকিমের মেয়েকে প্রার্থী করার ব্যাপারে একটা আলোচনা শুরু হয়েছিল। এমনকি এক সময়ে এই আলোচনাও ছিল যে বসিরহাট লোকসভা আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু দেখা যায়, ১০ মার্চ প্রার্থী ঘোষণার ঠিক ৩৬ ঘণ্টা আগে দেগঙ্গার অসুস্থ বিধায়ক হাজি নুরুল ইসলামকে ওয়ার্ম আপ করতে বলা হয়। তার পর বসিরহাটে তাঁকেই প্রার্থী করে তৃণমূল। হাজি নুরুলের মৃত্যুর পর বসিরহাট লোকসভা আসনে উপ নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। তা ছাড়া ছাব্বিশের ভোটও আসছে। প্রিয়দর্শিনীর কপালে এ যাত্রায় শিঁকে ছিড়বে কিনা তা কিছুটা হলেও ক্যামাক স্ট্রিটের উপরই নির্ভর করছে।