
শেষ আপডেট: 13 December 2023 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের বিধানসভা ভোটের পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে একটা নতুন শব্দের প্রচলন হয়েছে। তা হল ডায়মন্ড হারবার মডেল। মোদ্দা বিষয়টা খুবই সহজ। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক তাঁর নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটার ও উপভোক্তাদের পরিষেবা পাইয়ে দিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করছেন। কখনও তা কোভিডের টীকাকরণ, কখনও বা পানীয় জলের সরবরাহের ব্যবস্থা, কখনও বা জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙনের মেরামত ইত্যাদি।
এবার লোকসভা ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে নতুন অভিযানে নেমেছেন অভিষেক ও তাঁর টিম। লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় গরিব বরিষ্ঠ নাগরিকদের খুঁজে বের করে তাঁদের বার্ধক্য পেনশন নিশ্চিত করতে নেমেছেন স্থানীয় সাংসদ। সেই সূত্রেই নবান্নকে পষ্টাপষ্টি অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় বার্ধক্য পেনশনের টাকা রিলিজ করতে হবে।
প্রশ্ন হল, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকার টাকা রিলিজ না করলে কী হবে? অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সরকার টাকা না দিলে ১ জানুয়ারি থেকে বার্ধক্য পেনশনের টাকা দেওয়ার নিজেই বন্দোবস্ত করবেন সাংসদ।
অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে এও দাবি, আগে তাঁদের হিসাব ছিল মোটামুটি ভাবে ৭০ হাজার বরিষ্ঠ নাগরিককে বার্ধক্য পেনশন দিতে হবে। ২০৩টি ক্যাম্প বা শিবির তৈরি করে রাজ্য সরকারের থেকে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যোগ্য উপভোক্তাদের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাপিয়ে যাবে। তাই ডায়মন্ড হারবার এলাকার প্রতিটি ব্লক ও বুথ ধরে ধরে সাংসদের স্বেচ্ছা সেবকরা নতুন করে সমীক্ষা করতে নেমেছেন। যোগ্য উপভোক্তা যাতে একজনও বাদ না যায় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
যে ৭০ হাজার উপভোক্তা আগেই বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন জানিয়ে রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার জনের নাম ইতিমধ্যে নতুন করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরনো হিসাবের বাইরে আরও ৭২২১ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মহেশতলায় নতুন উপভোক্তার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে এখনও পর্যন্ত উপভোক্তার সংখ্যা বেড়েছে ২৪৯৬।
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭ টি বিধানসভা হল ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, সাতগাছিয়া, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ ও বিষ্ণুপুর। অনেকের মতে, অভিষেক উদ্যোগ নেওয়ার পর রাজ্য সরকার আশা করা যায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই টাকা রিলিজ করে দেবে। তা না করলে অভিষেক কোন তহবিল থেকে তাঁদের বার্ধক্য ভাতা দেবেন সেটাও কৌতূহলের বিষয়। সাংসদ এলাকার উন্নয়ন তহবিল থেকে সেই টাকা দেওয়া যায় কিনা সেও প্রশ্ন।