দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার রাত ন’টা বেজে ২০ মিনিটে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পা রাখেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সীমান্তে দাঁড়িয়েই বলেন, দেশে ফিরতে ভালো লাগছে। তারপর দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যায় বায়ুসেনা। আপাতত জানা গিয়েছে, দিল্লিতে মিলিটারি হসপিটালে তাঁর মেডিক্যাল চেক আপ হয়েছে। তিনি এখন আছেন এয়ার ফোর্সের হস্টেলে।
শুক্রবার জানা গিয়েছিল, নিয়মমাফিক এবার তাঁকে কয়েকদফা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। যুদ্ধবন্দিরা দেশে ফিরলে গোয়েন্দারা তাঁদের থেকে জানার চেষ্টা করেন তাঁরা কোনও গোপন তথ্য শত্রু দেশকে দিয়েছেন কিনা। শত্রু কোনওভাবে তাঁদের মগজ ধোলাই করেছে কিনা।
শুক্রবার উইং কম্যান্ডারের দেশে ফেরা নিয়ে টুইট করেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট রাজনীতিকরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন খেলাধুলা, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের সেলিব্রিটিরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন, ওয়েলকাম হোম, উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন। আপনার সাহস দেখে সারা দেশ গর্বিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ১৩০ কোটি নাগরিকের কাছে প্রেরণাস্বরূপ।
অভিনন্দন প্যারাসুটে করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নামার পরে স্থানীয় মানুষ তাঁকে তাড়া করে। তাদের মারে তিনি আহত হন। পরে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর চোখ বাঁধা আছে। হাতও বাঁধা। ওই ছবি দেখার পরে নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তান জেনিভা কনভেনশনের নিয়মগুলি মানছে না।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন, ‘শান্তি স্থাপনের জন্য’ অভিনন্দনকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের বাবা ও ঠাকুর্দাও বায়ুসেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি মুক্তি পাওয়ার পরে অনেকে আশা করেছিলেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমবে। কিন্তু তিনি দেশে ফেরার ঘণ্টাখানেক পর থেকেই সীমান্তে প্রবল গোলাবর্ষণ করতে থাকে পাকিস্তান। পুঞ্চ সেক্টরে গোলায় এক মহিলা ও তাঁর দুই শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়।
১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখনই সীমান্তে গোলাবর্ষণ শুরু করে পাকিস্তান। ২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তার পরে পাকিস্তান প্রায়ই গোলাগুলি চালায়। গত ১৫ বছরের মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে ২০১৮ সালে। গতবছর ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ভারতের উদ্দেশে শান্তির বার্তা দেন। তার পরেও সীমান্তে পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।