
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 May 2024 00:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠ দফার ভোট পর্ব মিটেছে। সারাদিনে রাজ্যের আট কেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগ অশান্তির ঘটনা ঘটেছে তমলুকে। সেখানকার বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ভোটের শুরু থেকেই রাজ্য পুলিশ এবং পরোক্ষে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। দাবি করেছিলেন, পুলিশ 'ভাইপোর' অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে, বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে। এবার তিনি ক্ষোভ ওগরালেন সংবাদমাধ্যমের ওপরও। বাংলার অন্যতম এক জনপ্রিয় চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে সাংবাদিকের উদ্দেশে অভিজিতের মন্তব্য, 'ভাইপোর চামচাগিরি করেন।'
সপ্তম বা শেষ দফার আগে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া উচিত! এমনই দাবি করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ই তিনি বলেন, ''ভোট মোটের ওপর ভাল হয়েছে। তবে আমি পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নই। আমি ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধ।'' তাঁর অভিযোগ, মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দালাল হিসেবে কাজ করেছে পুলিশ। তাই শেষ দফা ভোটের আগে সেই ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ে নেওয়া দরকার সাময়িকভাবে।
চ্যানেলের সাংবাদিক ঠিক তখনই জানতে চান যে, তিনি যা দাবি করছেন তার কোনও সাংবিধানিক নিয়ম আছে কিনা। তিনি এও বলেন, এই মুহূর্তে ভোটের মাঝে রাজ্যের আইন ব্যবস্থা তো নির্বাচন কমিশনের আওতায়। এই প্রশ্নের উত্তরে রীতিমতো কটাক্ষের সুরে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ''সবকিছুর জন্য সংবিধান লাগে? আপনি যে মাইনে পান তার সাংবিধানিক নিয়ম আছে নাকি? খুব ভুল ধারণা। এই ধারণা নিয়ে সাংবাদিকতা করবেন না।''
ভোট পর্বের জন্য তিনি কোনওভাবে অসন্তুষ্ট কিনা তাও জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে অভিজিৎ বলেন, ''সব সময় বিনম্রভাবে কথা বলার অর্থ আপনাদের মতো ভাইপোর চামচাগিরি করা নয়। আপনারা যখন-তখন চামচাগিরি করবেন আর আমরা মাথা ঠান্ডা করে উত্তর দিয়ে যাব, এটা ভাববেন না।'' এমনকী, সাংবাদিকরারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে টাকা পান বলেও বড় অভিযোগ করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
শনিবার ভোট শুরু হওয়ার কিছু আগেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিলেন তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সাতসকালেই তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। হলদিয়ার এক বুথের বাইরে তাঁর উদ্দেশে 'চোর' স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি 'বিজেপি হটাও' বলেও স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। বেলা বাড়ার পর আরও দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন বিচারপতি। প্রথম দিকে সংযত থাকলেও পরে বুথে দাঁড়িয়ে ‘হাড়গোড় ভাঙার’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মেজাজ হারিয়ে বলেন, ‘‘বিক্ষোভ দেখালে হাড়গোড় ভাঙা হবে।’’ সংবাদমাধ্যেম সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও যে তাঁর মেজাজ ঠিক ছিল না, তা স্পষ্ট হয়েছে।