
শেষ আপডেট: 24 November 2023 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আশ্বাস পেয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে বাড়ি পাবেন কিনা জানা নেই। আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়ায়, ত্রিপল খাটিয়ে ফাঁকা জায়গায় বসবাস করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরেই সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন খণ্ডঘোষের বিপন্ন পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ভেঙে পড়ায় দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক মহিলার। আহত হয়েছিলেন দু'জন। সেই পরিবারের এক সদস্য শেখ হবিবুর ইসলাম জানান, “আমি সরকারি প্রকল্পে ঘরের আবেদন করেছিলাম। একাধিকবার বিডিও অফিসে গেছিলাম। সার্ভার ডাউন ছিল। বলা হয়েছিল, সার্ভার ঠিক হলে পাঠানো হবে। সে কাজ এখনও হয়নি। যদি ঘর পেতাম তাহলে আমার বৌমা অকালে মারা যেত না।“
ওই পরিবারের আরও এক সদস্য শবনম পরভিন বলেন, “আমরা চারজন তখন আলমারি সরাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার কাকি বললেন, “ঘর ভেঙে পড়ছে”, কোনওক্রমে আমি দৌড়ে নীচে নেমে যাই। তাই প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।“
আরও এক সদস্য মুন্সি সায়দুল রিজভি জানান, “সার্ভার না থাকায় অনেকেই বাড়ি পাননি। যাঁরা পেয়েছেন, টাকার জোগান না থাকায় তাঁরা প্রকল্পের সুফল নিতে পারেননি। আমি বিডিও সাহেবকে সব কাগজ দিয়ে এসেছি।“
বৃহস্পতিবার রাতে খণ্ডঘোষের ওই গ্রামে মাটির বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় দেওয়াল চাপা পড়ে ৩০ বছরের জুলেখা বেগমের মৃত্যু হয় । গুরুতর জখম হন মৃতের দুই পরিবারের সদস্য মধুরানি বেগম ও শাবানা বেগম। তাঁরা এখনও বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জুলেখা বেগমের মাটির দোতলা বাড়ির অবস্থা ভগ্নপ্রায় হয়ে ছিল। আলগা হয়ে পড়েছিল ভিত। তাই তাঁরা আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকায় তাঁদের আবেদনপত্র বেশি দূর এগোয়নি।
এদিন সন্ধের সময় ঘরের দোতলা থেকে চারজন মহিলা আসবাবপত্র নামাচ্ছিলেন। সে সময় দেওয়াল থেকে ঝুরঝুর করে মাটি পড়তে দেখে তাঁরা সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাড়ির বাইরে বেরনোর চেষ্টা করেন। একজন পালিয়ে বাঁচতে পরলেও তখনই সিঁড়ি সমেত মাটির বাড়ির একাংশ চাপা পড়ে যান পরিবারের তিন মহিলা সদস্য।
এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল নেতাদের চারতলা বাড়ি থাকলেও তাঁরা প্রকল্পের বাড়ি পান। আর যাঁরা গরিব মানুষ তাঁরা আবেদন করেও বাড়ি পান না।
খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, “বিরোধীদের কাজ বিরোধিতা করা। দুর্ঘটনার পরই প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাদের দলের কর্মীরা উদ্ধার কাজে হাত লাগায়।“ তবে বাড়ির আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বিডিও অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখব, কেন পরিবারটি বাড়ি পায়নি।“
বিডিও অভীক কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”প্রশাসন ওই পরিবারের পাশে আছে। গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।“