দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগে শোনা গিয়েছিল, ২২ জানুয়ারি নির্ভয়ার চার খুনিকে ফাঁসি দেওয়া হবে। পরে জানা যায়, তাদের একজন ক্ষমাভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছে। ফলে ওইদিন ফাঁসি দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ফাঁসি দিতে দেরি হওয়ার জন্য দোষ চাপালেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির ওপরে। তাঁর দাবি, আপের গড়িমসির জন্যই খুনিদের দণ্ডাদেশ কার্যকর করা যাচ্ছে না।
২০১২ সালে চার অপরাধী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও খুন করে। তাদের নাম বিনয় শর্মা, মুকেশ কুমার, অক্ষয় কুমার সিং ও পবন গুপ্তা। সেকথা জানাজানি হওয়ার পরে ক্ষোভ দেখা যায় দেশ জুড়ে। সাত বছর বাদে নিম্ন আদালতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিহাড় জেলের ভিতরেই তাদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, “দিল্লি সরকারের গা ছাড়া মনোভাবের জন্য ২০১২ সালের গ্যাং রেপ কেসের আসামীদের ফাঁসি দিতে দেরি হচ্ছে। বিচারের প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার জন্য আপ দায়ী। দিল্লি সরকার গত আড়াই বছরে অপরাধীদের ক্ষমাভিক্ষা চাওয়ার নোটিস দেয়নি কেন?”
বুধবারই দিল্লি সরকার জানায় ২২ জানুয়ারি নির্ভয়ার খুনিদের ফাঁসি হচ্ছে না। কারণ খুনিদের একজন ক্ষমাভিক্ষা চেয়েছে। এরপর দিল্লি হাইকোর্ট জানায়, নির্ভয়া মামলায় চার অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার প্রশ্নই নেই। নিম্ন আদালত তাদের ফাঁসির হুকুম দিয়ে মোটেই ভুল করেনি। তবে অপরাধীরা ফের নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। নির্ভয়া মামলায় যিনি দিল্লি সরকারের কৌঁসুলি ছিলেন, সেই রাহুল মেহরা বলেন, আইনকে ফাঁকি দিতে চায় চার অপরাধী। তাই তারা আলাদা আলাদা করে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে আবেদন করছে।
তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে দেখতে হবে, রাষ্ট্রপতি অপরাধীদের ক্ষমা করেন কিনা। দিল্লি সরকারের কৌঁসুলি রাহুল মেহরা বলেন, রাষ্ট্রপতি ক্ষমাভিক্ষার আবেদন নাকচ করলে তবেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবার মুকেশ ও বিনয়ের কিউরেটিভ পিটিশন বাতিল করে দিয়েছে। অর্থাৎ খুনিদের সামনে আর কোনও আইনি পথ খোলা নেই। নির্ভয়ার মা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তিনি যেন মুকেশ সিং-এর ক্ষমার আর্জি অবিলম্বে নাকচ করে দেন।