দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে দিল্লি এইমসের বাইরে একটি পাঁচিল ভাঙতে গিয়েছিলেন আম আদমি পার্টির বিধায়ক সোমনাথ ভারতী। তখন তিনি এইমসের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার তাঁকে দু'বছরের কারাদণ্ড দিল দিল্লির এক আদালত। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার পাণ্ডে এদিন বিধায়ককে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছেন।
একইসঙ্গে সোমনাথ ভারতীকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জেলের মেয়াদ শুরুর আগে তিনি হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।
২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সোমনাথ ভারতী বুলডোজার দিয়ে এইমসের বাইরে একটি বেড়া ভেঙে দেন। তারপরেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। বিচারক এদিন বলেন, "আদালত মনে করে, অভিযোগকারীর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে।"
বিধায়কের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ নম্বর ধারা (ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করা), ৩৫৩ ধারা (সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া) এবং ১৪৭ নম্বর ধারা (দাঙ্গাহাঙ্গামা) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই সব অভিযোগে অপরাধীর পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সোমনাথ ভারতীর সঙ্গে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন জগৎ সাইনি, দিলীপ ঝা, সন্দীপ সোনু এবং রাকেশ পাণ্ডে। প্রমাণের অভাবে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গত বছর তাহির হুসেন নামে এক আপ বিধায়কের বিরুদ্ধে দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়, দাঙ্গার একমাস আগে, ৮ জানুয়ারি তাহির দেখা করেছিলেন জেএনইউয়ের দুই প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও খালিদ সইফির সঙ্গে। উমর খালিদ ‘ইউনাইটেড এগেন্সট হেট’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য। তাঁরা শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশের বক্তব্য, জানুয়ারিতেই তাহিরকে উমর খালিদ ইঙ্গিত দেন, দিল্লিতে ‘বড় কিছু’ ঘটতে চলেছে।
কারকারদুমা আদালতে তাহিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। তাতে লেখা হয়েছে, ৮ জানুয়ারি উমর খালিদ তাহিরকে বলেছিলেন, “ট্রাম্পের সফরের সময় দিল্লিতে দাঙ্গা হবে। সেজন্য প্রস্তুত থাকুন।” একইসঙ্গে তাহিরকে বলা হয়, উমর খালিদ নিজে ও তাঁর সংগঠনের অন্যরা দাঙ্গার সময় তাহিরকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবেন।
হুসেনকে জেরা করে ও তাঁর মোবাইলের কল লিস্ট দেখে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে চার্জশিট। পুলিশের দাবি, তাহির জেরায় স্বীকার করেছেন, সইফি তাঁকে দাঙ্গার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য টাকা দিয়েছিল। তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি ভুয়ো কোম্পানির অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ট্রান্সফার করেন।
তাহির জানিয়েছেন, তাঁকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা নিয়ে তিনি দাঙ্গার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। টাকার একটি অংশ তিনি নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিলি করেছিলেন। বিক্ষোভকারীদেরও তিনি বলেছিলেন, আপনারা বড় কিছুর জন্য তৈরি থাকুন। তাহির খবর পেয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছে কেউ কেউ নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সভা করার চেষ্টা করছে। তাদের ‘শিক্ষা দেওয়ার জন্য’ তিনি পিস্তল নিয়ে তৈরি ছিলেন।