
শেষ আপডেট: 18 December 2023 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পরিবারের লোকজনদের বেঁধে রেখে সর্বস্ব লুঠ করল ডাকাত দল। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা সামনে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরেই তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য পুলিশি পাহারার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ১৫-১৬ জনের দুষ্কৃতীদল আউশগ্রামের পলাশতলা পাড়ার বাসিন্দা অনিলকান্তি দত্তের বাড়িতে হানা দেয়। বাড়িতে থাকা গয়না, বিদেশি মুদ্রা, টাকা, প্যানকার্ড লুঠ করে পালায় তারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনিলবাবুর বাড়ি আউশগ্রাম থানার কাছেই। তা সত্বেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেল কী করে?
ইতিমধ্যে অনিলবাবু ও পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, অনিলবাবুর তিন ছেলে। বড় ছেলে অপূর্ব দত্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জাম্বিয়ায় চাকরি করেন। তিনদিন আগেই বাড়ি ফেরেন। অন্য দুই ছেলেও কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। মেজ ছেলে অনুপ দত্তের সাতদিন আগে বিয়ে হয়েছে। ঘটনার সময় নববিবাহিত অনুপবাবু ও তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না।
দোতলা বাড়ির নীচের তলায় চারটি ঘর রয়েছে। সেদিন সকলেই সেখানে শুয়ে ছিলেন। একটি ঘরে একাই ছিলেন অনিলবাবু। পাশের তিনটি ঘরে পরিবারের বাকিরা ছিলেন। দু'টি শিশু সহ মোট আটজন সদস্য বাড়িতে ছিলেন।
অনিলকান্তি দত্ত জানিয়েছেন, তখন রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর অনুমান, বাড়ির সব আলো নেভানো থাকায় সেই সুযোগে বারান্দায় গেটের তালা ভেঙে দুষ্কৃতীরা ঢোকে। অনিলবাবুর ঘরের দরজায় খিল দেওয়া ছিল না। তাই অনায়াসেই ঘরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা হাত পা বেঁধে ফেলে তাঁর। তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর গলার আওয়াজ পেয়ে পাশের ঘরে থাকা বড় ছেলে অপূর্ব ছুটে বাবার ঘরে এলে তাঁরও হাত পা বেঁধে রাখে দুষ্কৃতীরা। বাড়ির বাকি সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর দুষ্কৃতীরা চারটি ঘরে ঢুকে লুঠপাঠ চালায়।
অনিলবাবুর ছেলে অপূর্ব দত্ত জানিয়েছেন, ডাকাত ঢুকেছে বুঝতে পেরেই, বাবার ঘরের দিকে যাওয়ার আগে এক বন্ধুকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। ওই বন্ধু তাঁদের বাড়ির সামনে এসে ডাকাডাকি করতে থাকলে, তাঁর দিকেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তেড়ে যায় দুষ্কৃতীরা দলের কয়েকজন। তিনি ভয়ে পালিয়ে যান। তারপরে পাড়ার লোকজনদের খবর দেন। লোকজন বাড়ির সামনে জড়ো হওয়ার আগেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।
অনিলবাবু জানিয়েছেন, ৩ ভরি সোনা, ৫ ভরি রুপোর গয়না, ৩০০ মার্কিন ডলার, ৩০০০ জাম্বিয়ান মুদ্রা কিছু পোশাক লুঠের পাশাপাশি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ইত্যাদি নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
বর্ধমানের পুলিশ আধিকারিক বীরেন্দ্র কুমার পাঠক জানিয়েছেন, এই ডাকাতির ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ তদন্ত করছে।