
শেষ আপডেট: 15 November 2023 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: থানার ভিতর এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে উত্তাল আমহার্স্ট স্ট্রিট। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পদস্থ পুলিশ কর্তারা। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
চোরাই মোবাইল কেনার অভিযোগে ওই যুবককে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তখনই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ধুন্ধুমার বেঁধে যায় কলেজস্ট্রিট চত্বরে।
জানা গিয়েছে, নিহতের নাম অশোক কুমার সাউ। তাঁর বাড়ি কলুটোলা লেনে। যুবককে গুরুতর জখম অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আত্মীয়-পরিচিতরা। যদিও যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নাকি তাঁকে মারধর করা হয়েছে সেবিষয়ে সঠিক তথ্য জানা যায়নি। পুলিশ গোটা ঘটনাটির তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি করছেন মৃতের পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অশোক একটি মোবাইল কিনেছিলেন। সেই বিষয়েই বুধবার তাঁকে থানায় ডাকা হয়। অভিযোগ, সেটি নাকি চুরির মোবাইল ছিল! নিজের ভাইপোর স্ত্রীকে নিয়ে থানায় যান অশোক কুমার সাউ। তাঁর ভাইপো বিজয় সাউয়ের অভিযোগ, তাঁর কাকার পানের দোকান রয়েছে। তাঁকে বুধবার দুপুরে হঠাৎই আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর দাবি তিনি থানায় ঢুকে দেখেন যে মেঝেতে তাঁর কাকা গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। ভাইফোঁটার জন্য বুধবারই বাড়িতে এসেছিলেন অশোক। আর সন্ধেই এমন ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজয়ের স্ত্রী রজনী সাউ ফেসবুক লাইভ করে ঘটনাটির বিবরণ দেন। অভিযোগ করেন, থানায় ডেকে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে তাঁর আত্মীয়কে। যুবককে থানার মধ্যে মারার সেই ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, যুবককে অচৈতন্য অবস্থায় চ্যাংদোলা করে থানা থেকে বের করে আনা হচ্ছে। বুধবার সন্ধে সেই ভিডিও দেখে রীতিমতো শিউরে উঠেছেন সকলে।
বিক্ষোভের মাঝেই আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় পৌঁছায় কাউন্সিলর সজল ঘোষ। মৃতদেহ সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে কমান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।