
জামিনের পর যুবকের মৃতত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার
শেষ আপডেট: 10 July 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক যুবককে। আদালতে জামিন পাওয়ার পর বাড়ি গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের ঢোলাহাটের এই ঘটনায় পুলিশের মারধরে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, এবার এই অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
মৃত ওই যুবকের নাম আবু সিদ্দিক হালদার (২১)। পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৩০ তারিখ ঢোলাহাটের ঘাটমুকুলতলা এলাকায় ওই যুবকের কাকার বাড়িতে চুরি হয়। সেই ঘটনার পর চোর সন্দেহে আবু সিদ্দিককে পুলিশের হাতে তুলে দেয় পড়শিরা। আদালতে তোলা হলে জামিন পায় ওই যুবক। পরের দিন ছাড়া পেয়ে বাড়িতেও ফিরে আসে।
আবু সিদ্দিকের পরিবারের লোকজনের দাবি, বাড়ি ফেরার পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে মথুরাপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় ওই যুবককে। পরে পার্কসার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার রাতে মৃত্যু হয় তার।
থানায় প্রচণ্ড মারধর করার জন্য আবু সিদ্দিকির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। যুবকের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত আদৌ নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা এবং ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে কিনা এই সমস্ত বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। আর সেই প্রেক্ষিতে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিচারপতি মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রাতে যুবকের মৃত্যু পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবারের পর বুধবারও তাঁরা থানার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন মৃতের কাকা মহসিন হালদার। তাঁর আরও দাবি, আসল চোরদের সামনে আনা হোক। একইসঙ্গে যে সমস্ত পুলিশ কর্মীরা তাঁর ভাইপোকে ‘মারধর’ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যদিও থানায় মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সুন্দরবনের এসপি কোটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, তিন তারিখ আদালতে জামিন পায় ওই যুবক। চার তারিখ ছাড়া পায় সে। সুস্থ অবস্থাতেই বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। তারপর কী হয়েছে তা তাদের জানা নেই। ওই যুবকের কাকার বাড়ি থেকে টাকা চুরির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। যুবকের কাছ থেকে কিছু টাকাও উদ্ধার হয়। তবে পুলিশ হেফাজতে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।