
শেষ আপডেট: 24 January 2024 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পোষা হাঁসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর দেহের ময়নাতদন্ত চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন চুঁচুড়ার সিংহীবাগানের বাসিন্দা ইতি বিশ্বাস। বুধবার হুগলি জেলা পরিষদের মৎস ও প্রাণী সম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তীর কাছে গেলে তিনি ইতিকে নিয়ে থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দায়েরের পর পশু হাসপাতালে যান। ময়নাতদন্তের জন্য মৃত হাঁসগুলিকে কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
স্বামী রোগশয্যায়। এক মাত্র ছেলেও ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। পাঁপড় ভাজা আর ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনও ভাবে দিন গুজরান করেন ইতি। তার ১০টি হাঁস ছিল। ডিম বিক্রি করে সংসারে কিছুটা সুরাহা হত। ৩টি হাঁস শনিবার হঠাৎ মারা যায়। ইতি বলেন, “সকালে হাঁস ঘর খুলি। তারপর হঠাৎ দেখতে পাই ৩টি হাঁস কিছু মুড়ি খেয়ে ছটফট করতে করতে জলে চলে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। মুড়ির প্যাকেট তুলে দেখি এক কটু গন্ধ রয়েছে। তাতে সন্দেহ হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানালে তিনি পুলিশের কাছে যেতে বলেন। পুলিশে জানালে তারা বাড়ি গিয়ে তদন্ত করে পশু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। হাসপাতাল তাকে বলে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ পত্র লাগবে। এমনি করে কয়েকদিন পেরিয়ে যায়।”
ইতির সন্দেহ তার হাঁসগুলোকে মুড়িতে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেশী একজনের সঙ্গে মাস ছয়েক আগে অশান্তি হয়েছিল। তবে বিষ কে দিয়েছে তা দেখতে না পাওয়ায় কারও নামে অভিযোগ করেননি। হাঁসগুলোকে যে খুন করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত চেয়েছেন।
এদিন জেলা পরিষদের মৎস ও প্রাণী সম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, “একজন গরীব মহিলার তিনটে হাঁস মারা গেছে। আইনের কচকচানিতে তিন দিন ধরে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের কোনও পরিকাঠামো নেই। এই হাঁসগুলির ময়নাতদন্ত করা হবে। তবে কলকাতার বেলগাছিয়া স্টেট ফরেনসিক ল্যাবটারিতে।” তাঁর পোষা হাঁসের মৃত্যু কী কারণে তারপরেই স্পষ্ট হবে ইতির কাছে।