
শেষ আপডেট: 8 June 2019 16:04
মার্কিন একটি পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা 'ইকোশিখ', পাঞ্জাব সরকারের বন বিভাগের সাথে একসাথে এই প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করছে। ইকোশিখ তাই গাছপালা সরবরাহ করছে এই প্রকল্পে। এই বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের ১১টি খণ্ড জমি এবং পাকিস্তানে এক খণ্ড জমিকে পবিত্র বনভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রাম পঞ্চায়েত বা সরকারি দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে গাছপালা লাগানো হয়েছে।
একটি ইংরেজি দৈনিকে ইকোশিখের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার রণভীত সিং বলেছেন, “মিয়াওয়াকি এমন একটি গাছ লাগানোর জাপানি পদ্ধতি যাতে অন্য যে কোনও অরণ্যের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ঘন গাছ তৈরি হয়, যারা অনেক বেশি পরিমাণে কার্বণডাই অক্সাইড শোষণ করে নিতে পারে। নানক প্রকৃতির সাথে খুবই একাত্ম ছিলেন, তাই তাঁর ধর্ম প্রবর্তনের মাঝেও তিনি বারবার জল, হাওয়া, বায়োডাইভার্সিটি, অরণ্য নিয়ে কথা বলেছেন। আর এখন পাঞ্জাবের অনেক বনভূমিই তো জলের তলায়, তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর এর চেয়ে ভালো কোনও উদ্যোগ হতেই পারে না। সে কারণেই যাঁদের জমি এগুলো তাঁদের সাথে কথা বলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ১১ খণ্ড আর তৎসংলগ্ন পাকিস্তানের ১ খণ্ড জমিতে যেখানে এই অরণ্য তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে প্রতিটা খণ্ডই ১৬০ থেকে ১৮০ বর্গ মিটারের। এসব জায়গায় ছোট চারা গাছ, গুল্ম জাতীয় গাছ, ক্যানোপি জাতীয় গাছ স্তরে স্তরে লাগানো হচ্ছে। এসব জমিকে আরও অনেকটা উর্বর করতেই জল ধারণ উপাদান (তোড়হি), ছিদ্র উপাদান (চাল ভুমি), ধানের গুঁড়ি, গরুর মাংস, বাঁশের লাঠি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করছি। আমাদের উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক বাগান তৈরি করা, যা শুধুই ঘন হবে এমন নয়, সঙ্গে দেখতেও খুব সুন্দর হবে। পিয়াল, শিশু, আম, জাম, বাবলা, অশ্বগন্ধা, মহুয়া, শিউলি, ফলসা, অর্জুন, বেল,অমলতাস, বটের মতো স্থানীয় গাছ পাঞ্জাবের বনদফতর থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে এই নানক বাগিচির জন্য। এই ১৬০ বর্গ মিটার করে জমিকে সুন্দর বনভূমিতে পরিণত করতে খরচ প্রায় ৯০০০০ টাকা। এক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষ তাদের সুবিধে মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা এই গাছ লাগাতে তাঁদের সহায়তাও করবে। "
এখনও পর্যন্ত ভাটিণ্ডার গিলিপট্টি, গুরুদাসপুরের বার্ণালাতে, পাটিয়ালার সামানার তালাওয়ান্ডী মালিক গ্রামে, লুধিয়ানার তাজপুর অংশে, সাঙ্গরুরের মীমসাতে, রোপারের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি)তে, পাঞ্জাবের ডিসি কমপ্লেক্স এবং পাটলা উপজেলার গিলি পট্টিতে, নোয়াখালীর পাঞ্জাব অংশে, লুধিয়ানার নানক্ষার অঞ্চলে (যেখানে কাজ চলছে), রাজস্থান জোধপুরের মরুবনে এবং চন্ডীগড়ে গুরু গোবিন্দ সিং কলেজের সেক্টর ২৬-এ এই গাছগুলো লাগানো হয়েছে। রাজস্থানের জোধপুরের মারুবনে আরও একটি অংশে কিছু গাছ লাগানো হয়েছে। পাকিস্তানের কাসুরে প্রথম এভাবে গাছ লাগানো হল। সিং বলেন, "আমরা ‘রেস্টোর ফরেস্ট’-এর মতো একটি সংস্থার সাহায্যে পাকিস্তানের ওই অঞ্চলে গাছ লাগাতে পেরেছি। পাঞ্জাবের খাদুর সাহেব এলাকায় আরেকটি সাইট বা খণ্ড জমিতেও এই প্রজেক্ট করা হবে। প্রতিটি সাইটে২৮-৩৮ টি স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে।"
সিং বলছেন, “ যাঁদের থেকে জমি নেওয়া হচ্ছে, তাঁরা কথা দিয়েছেন, গাছগুলোর সঠিক যত্ন তাঁরা করবেন। এমনকি আগামী ৩০ মাসের জন্য কিছু কেয়ারটেকারও নিয়োগ করা হচ্ছে গাছের পরিচর্যার জন্য। প্রত্যেককে ভিডিয়ো করে গাছের পরিস্থিতি জানাতে হবে। আমরা দেখব গাছগুলোকে ঠিক করে জল, সার দেওয়া হচ্ছে কি না। সেগুলো ঠিক করে বেড়ে উঠছে কি না। নইলে পুরো উদ্দেশ্যটাই তো মাটি হয়ে যাবে। ”