বেতন পাচ্ছি না, ক্যানসারের চিকিৎসা করাবো কী করে', ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা জেট কর্মীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ছিল কান্না, হাহাকার। ধীরে ধীরে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন কি জেট কর্মীরা? সংস্থার কর্মী সংগঠনের দাবি, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ ঝাঁপ ফেলে দেওয়ার পর এটাই প্রথম আত্মহত্যার ঘটনা সংস্থার অন্দর
শেষ আপডেট: 26 April 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ছিল কান্না, হাহাকার। ধীরে ধীরে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন কি জেট কর্মীরা? সংস্থার কর্মী সংগঠনের দাবি, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ ঝাঁপ ফেলে দেওয়ার পর এটাই প্রথম আত্মহত্যার ঘটনা সংস্থার অন্দরে। দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ, শারীরিক অসুস্থতায় জর্জরিত হয়ে শেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন জেটের এক সিনিয়র টেকনিশিয়ান।
বছর পঁয়তাল্লিশের ওই জেট কর্মীর নাম শৈলেশ সিং। মহারাষ্ট্রের পালগড়ের বাসিন্দা শৈলেশ জেটের সিনিয়র টেকনিশিয়ানের পাশাপাশি জেট কর্মী সংগঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছেন, ক্যানসারে ভুগছিলেন শৈলেশ। তাঁর কেমোথেরাপি চলছিল। সংস্থার দুর্দিন শুরু হওয়ার পরে বাকিদের মতো তাঁর বেতনও বন্ধ হয়ে যায়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্দশার মুখে পড়েন তিনি।
বকেয়া বেতন ও জেটকে ফেরানোর দাবিতে গোটা দেশে যখন আন্দোলন চালাচ্ছিলেন জেটের পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার-সহ প্রায় ২২ হাজার কর্মী, তখন সেই আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন শৈলেশ। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বহুবার জেটকে বাঁচানোর দাবি করেছেন তিনি।
শৈলেশের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই মানসিক ভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস জন্মেছিল জেট আর কোনওদিনও ঘুরে দাঁড়াবে না। ক্যানসারের চিকিৎসার টাকার পাশাপাশি সংসারের বিপুল খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে নালাসোপারা (পূর্ব) এলাকায় তাঁদের চার তলা আবাসনের ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
"ক্যানসার সারিয়ে সুস্থ জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখেছিল শৈলেশ। পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য ভাবনায় একেবারে ভেঙে পড়েছিল। কেমো নিতেও বিশেষ যেত না। এখন সব শেষ হয়ে গেল," হাহাকার শৈলেশের স্ত্রীর।
জেটের কাঁধে এই মুহূর্তে ৮,৫০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণের বোঝা। সেই সঙ্গে কর্মীদের বকেয়া বেতন। দিন কয়েক আগেই সংস্থা ঘোষণা করেছিল, পুঁজির অভাবে আপাতত পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। তার পর থেকেই নানা জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কর্মীরা। প্রতি জেটের কর্মী সংগঠনের আর্জি, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে জেটকে বাঁচান। বিপুল ঋণের পুঁজি মেটাতে এগিয়ে আসুক সরকারও। তবে এই কালো দিনের শেষ কোথায় তা আপাতত অজানা। পরিবার-পরিজন নিয়ে শৈলেশের মতোই মানসিক অবসাদে ভুগছেন আরও হাজার হাজার জেট কর্মী।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-kolkata-jet-airways-employees-hold-protest-in-kolkata/