করোনা-ত্রাস: উহানে আক্রান্ত একদিনের শিশু, মা-বাবার থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে শিশুদের শরীরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বাস-প্রশ্বাসেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। ভাইরাস আক্রান্তদের সংস্পর্শে গেলেও রোগ ছড়াচ্ছে মহামারীর মতো। চিনে এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুলীলায় মেতেছে নোভেল করোনাভাইরাস।
উহানের শিশু হাসপাতালে সদ্যই জন্ম হয়েছে তার। বয়স মাত্র ৩০ ঘণ্টা। সেই শিশু
শেষ আপডেট: 5 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বাস-প্রশ্বাসেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। ভাইরাস আক্রান্তদের সংস্পর্শে গেলেও রোগ ছড়াচ্ছে মহামারীর মতো। চিনে এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুলীলায় মেতেছে নোভেল করোনাভাইরাস।
উহানের শিশু হাসপাতালে সদ্যই জন্ম হয়েছে তার। বয়স মাত্র ৩০ ঘণ্টা। সেই শিশুর শরীরেও মিলেছে ভাইরাস। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুযায়ী, ওই শিশুটির মা ভাইরাস আক্রান্ত ছিলেন। প্রসবের সময় তাঁর শরীরে ছিল করোনাভাইরাস। সেই থেকেই আক্রান্ত হয়েছে শিশুটি। উহান-সহ চিনের আরও অন্যান্য জায়গা থেকেও শিশুদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে, যা ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনের। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, অনুমান ভাইরাস এখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে। আক্রান্ত মা-বাবাদের কাছাকাছি থাকায় শিশুদের শরীরেও হানা দিচ্ছে ভাইরাস। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই ‘ভার্টিকাল ট্রান্সমিশন’ রোখা না গেলে মৃত্যু আরও বাড়বে।
চিনে ইতিমধ্যেই ভাইরাসজনিত রোগে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৬০। শুক্রবার হুবেই প্রদেশেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৭০ জনে মৃত্যুর খবর মিলেছে। গত এক সপ্তাহে উহান ও তার আশপাশের কয়েকটি শহর মিলিয়েই ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮ হাজারে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৬৯৪। গেল। বাসিন্দা। মূল ভূখণ্ডের বাইরে স্বশাসিত হংকংয়েও গতকাল মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। ফিলিপিন্সেও একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হংকং প্রশাসন জানিয়েছে, চিনের মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে কেউ ঢুকলেই তাঁদের দু’সপ্তাহের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হবে।

উহান শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক জেং লিংকং জানিয়েছেন, প্রসূতি মায়েদের থেকে সদ্যোজাতদের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত একদিনের একটি শিশু। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল। এইচআইভি এবং জিকা ভাইরাসের মতো করোনাভাইরাসও মায়ের প্লাসেন্টা দিয়ে বাহিত হয়ে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে পৌঁছচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজিস্ট স্টিফেন মর্স বলেছেন, ভাইরাস আক্রান্ত মা-বাবাদের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের শরীরেও হুহু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এমনও দেখা গেছে, হাসপাতালের পরিবেশ থেকেও শিশুদের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়েছে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২২ পর্যন্ত কোনও শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলেনি। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এও বলা হয়েছিল করোনাভাইরাস শিশুদের শরীরে হানা দেবে না। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। ২৬ জানুয়ারি বেডিংয়ে ৯ মাসের এক শিশুকন্যার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। পরে জানা যায় তাঁর বাবার শরীরেও বাসা বেঁধেছিল ভাইরাস। উহানে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত ৯৯ জনের বয়স পঞ্চাশের উর্ধ্বে। এখন দেখা যাচ্ছে ১৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও ভাইরাস হানা দিচ্ছে।
চিনের উহান থেকে যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল সেটা এখনও থাবা বসিয়েছে দেশের অন্যান্য শহরেও। বেজিংয়ে ১১১ জনের ভাইরাস-জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সাংঘাই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বার্তা দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং।
শুধু চিন নয়, রোজই নতুন নতুন দেশে খোঁজ মিলছে করোনাভাইরাসের। চিনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও ২৬টি দেশে এই রোগ সংক্রমণের খবর মিলেছে। ব্রিটেন জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষেই উহান থেকে তাদের দেশের নাগরিকদের শেষ দলটিকে এয়ারলিফ্ট করা হবে। হুবেই থেকে আসা মানুষদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করেছে বেজিং ও সাংহাই। হুবেই, উহান-সহ দেশের ১৮টি শহরকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।