স্পিকারের কাছে ইস্তফা দিতে গেলেন ১১ বিধায়ক, কর্ণাটকে গরিষ্ঠতা হারানোর পথে সরকার
দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই কর্ণাটকে কংগ্রেসের দুই বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। শনিবার শোনা গেল, কংগ্রেসের আটজন ও জেডি এসের তিন বিধায়ক ইস্তফা দিতে গিয়েছেন স্পিকারের কাছে। যদি তাঁরা সত্যিই ইস্তফা দেন, তাহলে রাজ্যে শাসক জোট গরিষ্ঠতা হারাতে পারে।
শেষ আপডেট: 6 July 2019 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই কর্ণাটকে কংগ্রেসের দুই বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। শনিবার শোনা গেল, কংগ্রেসের আটজন ও জেডি এসের তিন বিধায়ক ইস্তফা দিতে গিয়েছেন স্পিকারের কাছে। যদি তাঁরা সত্যিই ইস্তফা দেন, তাহলে রাজ্যে শাসক জোট গরিষ্ঠতা হারাতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডি এস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী এই সংকটের সময় গিয়েছেন আমেরিকায়। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
২২৪ আসনবিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভায় ১১৩ টি আসন পেলে কোনও দল বা জোট গরিষ্ঠতা পায়। কংগ্রেস-জেডি এস জোটের আছে মাত্র ১১৬ টি আসন। ১৫ জন বিধায়ক ইস্তফা দিলে সরকার পড়ে যাবে। রাজ্যে জোট সরকারের বয়স হল একবছর। শুরু থেকেই নানা ইস্যুতে হোঁচট খেয়েছে জোট। মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী একাধিকবার জোটসঙ্গী কংগ্রেস সম্পর্কে অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছেন। যতদূর শোনা যাচ্ছে, এবার কংগ্রেসের রামলিঙ্গ রেড্ডি একদল বিধায়ককে নিয়ে ইস্তফা দিতে চলেছেন।
রামলিঙ্গ অবশ্য জানিয়েছেন, আমি নিজে ইস্তফা দিতে এসেছি। আমার মেয়েও ইস্তফা দিতে এসেছে কিনা জানি না। সে স্বাধীন। রামলিঙ্গের মেয়ে সৌম্যা রেড্ডিও কংগ্রেসের বিধায়ক।
কেন পদত্যাগ করছেন জানতে চাইলে রামলিঙ্গ বলেন, আমি দল বা হাইকম্যান্ড, কাউকে দোষ দিতে চাই না। আমার মনে হচ্ছিল কয়েকটি ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছি। তাই এই সিদ্ধান্ত।
পদত্যাগ ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছেন মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। তিনি কর্ণাটকে কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার বলে পরিচিত। কয়েকজন বিধায়ক স্পিকারের অফিসে গিয়েছেন শুনে তিনিও সেখানে হাজির হয়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, একজনও দল ছাড়বেন না।
[caption id="attachment_121174" align="alignleft" width="611"]

কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার ডি কে শিবকুমার[/caption]
কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার রমেশ কুমার বলেছেন, তিনি সোমবার ইস্তফাপত্রগুলি খতিয়ে দেখবেন। বিধায়করা যখন তাঁর অফিসে যান, তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে তিনি বলেন, আমি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমি অফিসের কর্মচারীদের বলেছি, রেজিগনেশন লেটারগুলো নিয়ে নিন। ১১ জন ইস্তফা দিয়েছেন শুনেছি। কাল ছুটির দিন। সোমবার অফিসে গিয়ে চিঠিগুলো দেখব।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গুন্ডু রাও এখন রাজ্যে নেই। দুই উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর ও শিবকুমার বিধায়ক ও কাউন্সিলারদের নিয়ে জরুরি মিটিং ডেকেছেন। এর আগে কুমারস্বামী অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি ক্রমাগত তাঁর বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা করছে। রাজ্যে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ১০৫ জন। বিজেপির বক্তব্য, কংগ্রেস বিধায়কদের দলত্যাগের ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। তবে সরকার যদি পড়ে যায়, তাদেরই সরকার গড়তে ডাকা উচিত।