দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগে জানা গেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের কথা। সে দেশের কিছু শহরে কোভিড আক্রমণের তীব্রতা এতই বেশি, যে পথেঘাটে পড়ে রয়েছে মৃত রোগীদের লাশ। এ দেশেও কি এবার তেমনই হতে চলেছে, তাও খোদ কলকাতার বুকে!
বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘটনা যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করছে! রাজ্যের প্রধান কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত মেডিক্যাল কলেজের সুপারের অফিসের পাশে ইডেন বিল্ডিংয়ের ধারে আজ প্রায় ঘন্টা দুয়েক পড়েছিল এক বৃদ্ধের দেহ। জানা গেছে, জ্বর ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ নিয়েই ছেলের সঙ্গে ভর্তি হতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল মৃত্যু, দেহ পড়ে রইল দু'ঘণ্টার বেশি সময় ধরে!
স্বাভাবিক ভাবেই এভাবে করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া রোগীর দেহ পড়ে থাকাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতাল চত্বরে। রটে যায়, নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন ওই বৃদ্ধ। ফলে আতঙ্কে কেউই তাঁর ধারেকাছে ঘেঁষেননি। শেষমেশ কোনও ভাবে একটি শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা করে বাবার দেহটি হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান তাঁর ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফিভার ক্লিনিকে। সেখানে তাঁকে দেখার পরে চিকিৎসক বলেন ভর্তি করাতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী দু'নম্বর গেটের পাশে ভর্তির টিকিট করতে যান তাঁর ছেলে। এর পরে স্ট্রেচার বা ট্রলি না পেয়ে বাবাকে কোলে করেই হাঁটা শুরু করেন যুবক।
কিছুটা পথ যাওয়ার পরে, হাঁফিয়ে গেলে সুপারের অফিস এবং ইডেন বিল্ডিংয়ের ঠিক মধ্যবর্তী জায়গায় রাস্তার ওপরে বাবাকে নামান ওই ছেলে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, তখনই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
এর পরে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক ওখানে পড়ে থাকে মৃতদেহ। মৃতের ছেলে বলেন, "এক জায়গা থেকে আর এক জায়গা নিয়ে যেতে গিয়েই বাবা মারা গেল। চিকিৎসাই হল না কোনও।" তবে তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা-- এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর মেলেনি মৃতের ছেলের কাছ থেকে।
প্রশ্ন উঠেছে, মৃত্যুর পরে এতক্ষণ দেহ পড়ে রইল কেন?
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, "আমরা শুনেছি এই ঘটনার কথা। কিন্তু ঠিক করে জানিই না ঘটনাটি ঠিক কী। কোথা থেকে ওই মানুষটিকে নিয়ে আসা হয়েছিল, তিনি আদৌ ভর্তি হতে পেরেছিলেন কিনা, সেই খবর নিই। সঠিক তথ্য মেলেনি। কেউ ভর্তি হয়েছেন কিন্তু বেডে পৌঁছনোর আগেই মারা গেছেন, এমন ঘটনাই ঘটেনি হাসপাতালে। ফলে না আমরা ওই রোগীর নাম-ঠিকানা জানতে পেরেছি, না জানতে পেরেছি কী উপসর্গ নিয়ে কোথায় ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তার আগেই দেহ নিয়ে চলে গেছেন তাঁর ছেলে। শুনেছি করোনার উপসর্গ ছিল। ঠিক কাজ হয়নি এভাবে দেহ নিয়ে গিয়ে।"