দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে করোনা সংক্রমণ যত বাড়ছে, ততই যেন নগ্ন হচ্ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খামতিগুলো। দিন তিনেক আগেই চারটে হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে চোখের সামনে মারা গেছে ইছাপুরের ১৮ বছরের তরুণ। শেষমেশ মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে তার পরিবার আত্মহত্যার হুমকি দিলে কয়েক ঘণ্টা পরে ভর্তি নেওয়া হয়। তার আগে পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্সেই কাতরাচ্ছিল সে। শেষমেশ মারা যায় ছেলেটি। আজ সোমবার দুপুরে আবারও প্রায় একই দৃশ্যের সাক্ষী হল মেডিক্যাল কলেজ।
জানা গেছে, সরকারি হাসপাতাল এনআরএস-এ ভর্তি ছিলেন হৃদরোগে আক্রান্ত, বছর চল্লিশের এক রোগী। তাঁর করোনা টেস্ট করা হলে রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। তার পরেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার কার হয় তাঁকে। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি কর্মীরা তাঁকে নিয়ে গেলে মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের বাইরে ঘণ্টা খানেকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ে ক্রমশ খারাপ হতে থাকে ওই হৃদরোগীর অবস্থা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্ট ক্রমেই বাড়ছিল ওই যুবকের। অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মীরা একবার এমার্জেন্সির ভিতরে ঢুকছেন একবার বাইরে বের হচ্ছেন। এত দেরির কারণ হিসেবে জানা যায়, মেডিক্যাল থেকে বলা হয়, ওই রোগীর নাম স্বাস্থ্য ভবন থেকে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি। তাই তাঁকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়। আর বাইরের অ্যাম্বুল্যান্সে তখন শ্বাসকষ্টে কাতরাচ্ছেন ৪০ বছরের যুবক।
জানা গেছে, এই সময়ে স্বাস্থ্য ভবনেও ফোন করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনও সদুত্তর মেলেনি বলেই অভিযোগ। ফলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এমার্জেন্সির বাইরে অ্যাম্বুল্যান্সেই কাতরাতে থাকলেন রোগী। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সরকারি ভাবে পাঠানো সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে এনেও ভর্তি করা গেল না।
অনেকেই বলছেন, এই ঘটনাগুলি গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাবকেই প্রকট করছে। একটি সরকারি হাসপাতালে কোভিড ধরা পড়লে তাঁকে সরকারি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করাতে এত বেগ পেতে হবে কেন খোদ সরকারি কর্মীদের, সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।