কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এও লেখেন, “রাজ্যের আইনগত অধিকার যেখানে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, সেখানে কেন্দ্রের এমন হস্তক্ষেপ দেশের ফেডারেল কাঠামোর প্রতি আঘাত।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 November 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিং পাহাড়ে গোরখা সংক্রান্ত বিষয় (North Bengal) দেখতে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারকে ইন্টারলোকিউটার হিসেবে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ফের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে (PM Modi) কঠোর ভাষায় চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ১৭ নভেম্বরের এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ—রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্র একতরফাভাবে এই নিয়োগ করেছে।
কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে মমতা জানিয়েছেন, তিনি ১৮ অক্টোবরই প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া তো মিলেইনি, বরং ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়—ইন্টারলোকিউটরের অফিস ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই আচরণ সত্যিই বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক।”

এ ব্যাপারে মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, দার্জিলিং রাজ্যেরই বিষয়, কেন্দ্রের নয়। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং পশ্চিমবঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গোরখা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) অ্যাক্ট, ২০১১ অনুযায়ী পাহাড়ের প্রশাসনিক বিষয় রাজ্যের অধীনেই পড়ে। সেই আইনে 'Government; বলতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই বোঝায়। তাই পাহাড়ের বিষয়ে ইন্টারলোকিউটার নিয়োগ করার মতো ক্ষমতা কেন্দ্রের নেই বলেও চিঠিতে স্পষ্ট লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে তিনি আরও বলেন—'এই সিদ্ধান্ত আইনবহির্ভূত, সংবিধানের পরিপন্থী এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ।'

মমতার মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ শুধু আইনি কাঠামো ভাঙছে না, বরং দার্জিলিং পাহাড়ে দীর্ঘদিনের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অস্থিতিশীল করে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তিনি দাবি করেছেন, ২০১১ সালের পর থেকে পাহাড়ে যেভাবে শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়েছে, তা রাজনৈতিক স্বার্থে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে কেন্দ্র।
সূত্রের খবর , কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এও লেখেন, “রাজ্যের আইনগত অধিকার যেখানে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, সেখানে কেন্দ্রের এমন হস্তক্ষেপ দেশের ফেডারেল কাঠামোর প্রতি আঘাত।” তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের ক্ষমতা খর্ব করার স্পষ্ট চেষ্টা।
একই সঙ্গে চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, “অবিলম্বে এই একতরফা এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করুন।” এখন দেখার কেন্দ্র এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করে।