দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা একদিন লড়েছিল ছেলেটা, কিন্তু পারল না। পরনে পিপিই, হাতে সাদা কাপড়ে জড়ানো একরত্তির দেহটা আঁকড়ে ধরে এমনই বলছিলেন আবদুল। তাঁর নিজের শরীরে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্যই পরতে হয়েছে পিপিই, এক স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে ছেলের শেষকৃত্যের কাজ করতে করতে আবদুল জানিয়েছেন, ভাইরাসের সংক্রমণে সেপসিস হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট শরীরটাতে। হাসপাতালে ভর্তি করার একদিনের মধ্যেই মৃত্যু।
জয়পুরের চাঁদপোল কলোনীর বাসিন্দা ওই শিশুর পরিবার। আবদুল বলেছেন, জন্মের পরে সংক্রমণ ধরা পড়েনি। দিনকয়েক ধরেই শ্বাসের সমস্যা হচ্ছিল ছোট্ট সুহানের। জেকে লোন শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তাররা। দেওয়া হয় ভেন্টিলেটর সাপোর্টও।
জেকে লোন হাসপাতালের ডাক্তার অশোক গুপ্ত বলেছেন, ২০ দিনের শিশুর শরীরে সেপসিস হয়ে গেছিল। ওইটুকু ছেলেও শেষ অবধি লড়াই করেছে, কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ডাক্তার বলেছেন, সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছিল ছোট্ট শরীরটাতে। কীভাবে শিশুটি সংক্রামিত হল সেটা এখনও জানা যায়নি। শিশুটির মাকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে তাঁর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাবা আবদুল ও পরিবারের অন্যদের শরীরে সংক্রমণ নেই বলেই জানা গিয়েছে।
ডাক্তার গুপ্ত বলেছেন, চাঁদপোল কলোনীতে অনেকদিন ধরেই কার্ফু জারি করা হয়েছে। শিশুটি কীভাবে সংক্রমিত কারও সংস্পর্শে এল সেটাই জানা যাচ্ছে না। অনুমান করা হচ্ছে, উপসর্গ নেই পরিবারের এমন কারও থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল শিশুটির শরীরে।
শিশুদের উপর করোনার প্রভাব কতটা সেই নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে একটি গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বেশিরভাগ শিশুদের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সংক্রমণ মৃদু। হাল্কা জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে আবার মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা, ঝিমুনিভাবও দেখা গেছে। এমন উপসর্গ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সেটা সারিয়ে তোলা সম্ভব। কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিশু বা কম বয়সীরা কোভিড সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে শ্বাসের সমস্যাও রয়েছে। সেই সংখ্যা কম হলেও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। চিন্তার বিষয় হল উপসর্গহীন শিশুরা। এমন সংখ্যাও ইদানীং বাড়ছে। গবেষকরা বলছেন, সংক্রামিত মা-বাবা অথবা পরিবার, পরিজনদের সংস্পর্শ থেকেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। অনেকের মধ্যে শুরুতে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন পরিবারের কেউ কোভিড আক্রান্ত হলে সকলকেই টেস্ট করানো দরকার। বিশেষত শিশুদের।