দ্য ওয়াল ব্যুরো : গৃহহীন মানেই আমরা ধরে নিই ভিক্ষুক। কিন্তু সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে অন্য তথ্য। গৃহহীনদের বেশিরভাগ নানা পেশায় যুক্ত, তাঁদের ৫১ শতাংশকে গড়ে পাঁচবার পুলিশ উচ্ছেদ করেছে। উপযুক্ত জীবিকার সন্ধান না পাওয়ার জন্যও নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন অনেকে। গৃহহীনদের ৭৯ শতাংশই জীবিকার কারণে উচ্ছেদ হয়েছেন। ইন্দো গ্লোবাল সোশ্যাল সার্ভিস সোসাইটি নামে এক সংস্থার সমীক্ষায় এই তথ্য জানা গিয়েছে।
বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের ১৫ টি শহরে গৃহহীনদের সম্পর্কে ওই সংস্থা তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গৃহহীনদের জীবন আর দারিদ্র সমার্থক। তাঁরা সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, তাঁদের আত্মপরিচয় নিয়ে সংকট আছে, তাঁরা নানাভাবে শোষণের শিকার। রাজধানী দিল্লির ১৯৩ টি হোমলেস শেল্টারে আলাদা করে সমীক্ষা করেছিল ওই সংস্থা। তাতে দেখা যায়, পথবাসীদের জন্য নির্মিত ওই শেল্টার হোমগুলিতে বেশি লোকের থাকার জায়গা নেই। পথবাসীদের মধ্যে যাঁদের শারীরিক কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে, তাঁদের থাকার পক্ষে ওই শেল্টার হোমগুলি আদৌ উপযুক্ত নয়।
গৃহহীনদের ৪৬ শতাংশের বয়স ৩৫-এর নীচে। তাঁদের যথাযথ জীবিকা নেই। শিক্ষালাভ বা পেশাগত যোগ্যতা বাড়ানোর কোনও সুযোগও তাঁরা পান না। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের উপযুক্ত কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কম। পথবাসীদের ৮৬.৬ শতাংশ ধর্মে হিন্দু। মুসলিমরা আছেন ৭.৮ শতাংশ ও খ্রিস্টানরা পাঁচ শতাংশ।
গৃহহীনদের ৬৬.৪ শতাংশের আধার কার্ড আছে। ৩৭.৩ শতাংশের আছে রেশন কার্ড, ৩৯.৫ শতাংশের আছে ভোটার আইডি কার্ড ও ২৭.৭ শতাংশের আছে পাসবুক।
গৃহহীনদের ৩০ শতাংশের কোনও পরিচয়পত্র নেই। সমীক্ষক সংস্থার তরফে সোনু পি যাদব জানিয়েছেন, ২০১১ সালের সেন্সাসে গৃহহীনদের সম্পর্কে বিশেষ খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। কারণ তাঁরা শহরে অস্থায়ী বাসস্থানে থাকেন। দেশে ঠিক কতজন গৃহহীন, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এর ফলে সরকার তাঁদের কল্যাণে কোনও প্রকল্প নিলেও অনেকাংশে ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ প্রকল্পের সুফল কখনও সব গৃহহীনের কাছে পৌঁছায় না।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশে গৃহহীনের সংখ্যা ১৭ লক্ষ। অর্থাৎ তা মোট জনসংখ্যার ০.১৯ শতাংশ। শতাংশের বিচারে বলা যায়, গৃহহীনের সংখ্যা আগের চেয়ে ০.০৪ শতাংশ কমেছে। কিন্তু অন্যদিকে গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০০১ সালে পথবাসী পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার। ২০১১ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার।