দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা ধুতি ,হালকা হলুদ রঙের কুর্তা এবং একটি গামছা গায়ে দিয়ে নিজেই নিজের জন্য ভোটের প্রচার করছেন প্রার্থী। এমনই দৃশ্য দেখা গেল ওড়িশার বালাসোর শহরের নির্বাচনে। ৮০ বছর বয়সী প্রার্থী বেণুধর বারিক নিজেই সাইকেল নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন প্রচারের জন্যে। বেণুধর বাবুর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এলাকায়। তাঁকে দেখে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন কথা বলতে, অনেকে আবার তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণামও করেছেন।
বেণুধর বাবুকে ওই অঞ্চলের মানুষ ভালবেসে মাউসা(কাকা) বলেন। তিনি বালাসোর সদরের আসন্ন উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী। যেখানে সমস্ত হেবিওয়েট, নামজাদা প্রার্থীরা মিটিং মিছিল করে প্রচার করছেন সেখানে তিনি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিজেই নিজের প্রচার করছেন। নিজেই নিজের নির্বাচনী পোস্টার বিলি করছেন। যেখানে তাঁর ছবি, নাম এবং নির্বাচনের প্রতীক রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে বেণুবাবু জানান, "আমি যে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবো, তা আগে কখনও ভাবতে পারিনি। আমার কাছে আগে টাকা ছিলনা। কিন্তু আমি চেয়েছি সবসময় দুঃস্থ মানুষের সেবা করতে। আমি বিধায়ক হই বা না হই, মানুষের সেবা আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন করবো।"
বারিক বাবু পেশায় নাপিত। সাধারণত তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে, গাছের নীচে বসে চুল কাটেন। গত ছয় দশক ধরে তিনি এই কাজ করছেন। এই কাজের সুবাদেই তাঁকে সকলে চেনেন। তিনি আরও বলেন যে, " গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাজ করার সুবাদে আমি মানুষের সুবিধা অসুবিধা খুব কাছ থেকে দেখতে পেরেছি।" আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়, তাই ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য ১০হাজার টাকা ধার নিতে হইয়েছে তাঁকে। তিনি কোনও দিন স্কুলে যেতে না পারলেও নিজের চেষ্টায় লিখতে এবং পড়তে শিখেছেন বেণুধরবাবু। একটি টেম্পো ভাড়া করে তিনি নিজের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করছেন। আগামী ৩রা নভেম্বর বালাসোরে ভোট। জোরকদমে চলছে তারই প্রস্তুতি।
বালাসোরের গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দা বেনুধর বারিক নিজে একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে বাস করেন। ৩০ বছর আগে স্ত্রী মারা যান। তারপর থেকেই তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন।
এর প্রায় একদশক আগে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেবার অবশ্য তিনি অসফল হন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, " আমার সামর্থ্য খুব একটা নেই। আমি চেয়েছিলাম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, কিন্তু তার জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ আমার কাছে সেই সময় ছিলনা। এখনও তেমন টাকা পয়সা নেই। টেম্পো ভাড়া করে প্রচার ও পোস্টার বানাতে গিয়ে ধার পর্যন্ত করতে হয়েছে। কিন্তু আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্যে আর অপেক্ষা করতে চাইনি। "
বিজেপি আর বিজেডির মধ্যে ভোট নিয়ে চলছে প্রবল তোড়জোড়। একটি আসনের জন্যে লড়ছেন ৬ জন। তার মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক বারিক বাবু। যদিও তিনি খুব বেশি সুযোগ পাচ্ছেন না প্রচার করার। তাও তিনি দমে যাননি মোটেও। যে ক'জন আসেন তাঁর বক্তৃতা শুনতে তাঁদেরকে নিয়েই সারছেন নিজের প্রচার।
স্থানীয় এক বাসিন্দা এ প্রসঙ্গে স্পষ্টই বললেন, " বিধায়করা ভোটের সময় আসেন শুধু। তারপর আর তাঁদের দেখা মেলে না কিন্তু আমরা জানি বেনু মাউসাকে আমরা সুখে -দুঃখে সবসময় পাশে পাবো। "