
শেষ আপডেট: 20 September 2023 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জমি নিয়ে নিত্যদিনের ঝামেলা। দাদার জমির দখল নিতে চাইছিল ছোটভাই। স্বভাবতই তাতে রাজি হননি দাদা। সেই বিবাদের জেরেই লাঠি নিয়ে দাদার উপর চড়াও হয়েছিল ভাই। তাতেই মৃত্যু হয় দাদার (man killed brother)। তারপর মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় কেটে গেছে ৪ দশক। প্রয়াত হয়েছেন সাক্ষীদের অনেকে, অভিযুক্তের নিজের বয়সও ৮০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু এতদিনে সেই খুনের মামলার রায় দিল আদালত। দীর্ঘ ৪০ বছর পর অশীতিপর বৃদ্ধকে দাদাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল আদালত (80 year old gets life sentence)।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের (Aligarh)। অভিযুক্তের নাম জয়পাল সিং। ১৯৮৩ সালে জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে দাদা রঘুনাথ সিংকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। খুনের ঘটনার পরেই গ্রেফতার করা হয় জয়পালকে। কিন্তু কয়েকমাস পরেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় অভিযুক্ত। সেই মামলার অগ্রগতিতে স্থগিতাদেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad high court)। দীর্ঘ প্রায় ৪ দশক অপেক্ষার পর রঘুনাথের ৭৫ বছর বয়সি বিধবা স্ত্রী চন্দ্রমুখী বিচার চেয়ে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এবার তাঁর আর্জি শোনার পর মামলার দ্রুত নিস্পত্তির নির্দেশ দেয় আদালত।
এই মামলায় প্রাথমিকভাবে সাক্ষী ছিলেন ১৭ জন। চন্দ্রমুখীদেবীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়ে গিয়েছিল সেই ১৯৮৪ সালেই। কিন্তু বাকি সাক্ষীদের অনেকেই এখন আর বেঁচে নেই। কেউ কেউ আবার আদালতে একবারও হাজিরাই দেননি। শেষমেশ সব মিলিয়ে ৫ জন সাক্ষীর বয়ান নিয়েই নতুন করে শুনানি শুরু হয়। সেই বয়ান এবং অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার মামলার রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
চন্দ্রমুখী জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুর নিজের যাবতীয় সম্পত্তি দুই ছেলের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ছোটভাইয়ের বরাবর নজর ছিল দাদার সম্পত্তিতে। রঘুনাথের সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে চাইত জয়পাল। সেই নিয়েই দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা লেগে থাকত। ১৯৮৩ সালের ১ জুন কাজ সেরে রঘুনাথ যখন বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় একটি লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে জয়পাল। আহত অবস্থায় রঘুনাথকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
দীর্ঘ ৪ দশক পর বিচার পেয়ে স্বভাবতই শান্তি পেয়েছেন চন্দ্রমুখীদেবী। সময় পাল্টেছে, বয়স ছাপ ফেলেছে চেহারায়, তবু বিচারের আশা ছাড়েননি তিনি। শেষমেশ স্বামীর হত্যাকারীর সাজা শুনে খুশি তিনি।
সিউড়িতে শুভেন্দুর সভায় হঠাৎ 'মমতাদি জিন্দাবাদ' স্লোগান! ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল’ দাবি তৃণমূলের