
শেষ আপডেট: 25 March 2023 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোমওয়ার্ক করে নিয়ে না যাওয়ার জন্য পিটিয়ে মারা হল সাত বছরের (7 year old) এক পড়ুয়াকে। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সহরসা জেলায়। মৃত পড়ুয়ার নাম আদিত্য যাদব। সে ওই এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের লোয়ার কেজি শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। সূত্রের খবর, গত বুধবার হোমওয়ার্ক করে নিয়ে যায়নি আদিত্য। এতেই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে শিক্ষক (teacher) সুজিত কুমার। একটি কাঠের লাঠি দিয়ে ছোট্ট আদিত্যকে বেধড়ক পেটাতে (beaten up) শুরু করে সে। মারের চোটে অজ্ঞান হয়ে যায় আদিত্য।
এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক আদিত্যর বাবা প্রকাশ যাদবকে ফোন করে জানায়, তাঁর ছেলে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেছে। তারপর স্কুলের অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাসপাতালে নিয়ে যান আদিত্যকে। কিন্তু চিকিৎসকরা আদিত্যকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, আদিত্যর হোস্টেলের বন্ধু ও সিনিয়ররা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালবেলা ওই পড়ুয়াকে অজ্ঞান অবস্থায় নিজের ঘর থেকে খুঁজে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে হোস্টেলের সব ছাত্ররা মিলে তাকে সুজিত কুমারের কাছে নিয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক বুঝতে পারে আদিত্য আর বেঁচে নেই। চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষকই নাকি তাদের বলে আদিত্যর দেহটিকে হাসপাতালে রেখে চলে যেতে। স্কুলের অন্যান্য ছাত্ররা জানায় পরপর দুদিন হোমওয়ার্ক করে নিয়ে না আসার জন্য আদিত্যকে পেটায় ওই অভিযুক্ত শিক্ষক।
ডাক্তার দীনেশ কুমার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আদিত্যর মৃত্যু হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ওই পড়ুয়ার দেহে কোনও ক্ষতর চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। ও
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই অভিযুক্ত শিক্ষক এখন পলাতক। মৃতের বাবা জানান, হোলির ছুটিতে বাড়ি এসেছিল আদিত্য। আবার মার্চের ১৪ তারিখ হোস্টেলে ফিরে যায় সে। পরে বৃহস্পতিবার হঠাৎ তাঁর কাছে ফোন আসে যে তাঁর ছেলে অজ্ঞান হয়ে গেছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি স্কুলে পৌঁছনোর আগেই আদিত্য মারা যায় এবং অভিযুক্ত সুজিত কুমার পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ মৃতের বাবার।
মৃতের বাবা প্রকাশ যাদব ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।