দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বুরারি, ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের পর এ বার রাঁচি। উদ্ধার হয়েছে একই পরিবারের সাত সদস্যের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে দু'জন শিশুও রয়েছে।
জানা গিয়েছে, দীপক কুমার ঝা নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা, মা, ভাই, স্ত্রী এবং দুই সন্তান। রাঁচিতে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। বাড়িওয়ালা জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন দীপক। কিন্তু নিজে ব্যবসা করার চেষ্টা করছিলেন। তবে ডুবে ছিলেন দেনার দায়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল দীপকের। প্রয়োজন ছিল আরও টাকার। কিন্তু পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন দীপক নিজেই। তাঁর ভাই রূপেশও ছিলেন বেকার। পুলিশের অনুমান, তীব্র আর্থিক অনটন এবং দেনার দায়েই আত্মহত্যা করেছেন ওই পরিবার।
সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য দীপকের মেয়ের স্কুল ভ্যান আসে বাড়িতে। কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ভ্যান থেকে নেমে একটি বাচ্চা বাড়ির ভিতরে যায় দীপক ঝা-এর মেয়েকে ডাকতে। আর তখনই মৃতদেহগুলি দেখতে পায় ওই বাচ্চাটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। দীপক এবং রূপেশ, দুই ভাইকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তারা।বাকিরা মৃত অবস্থায় খাটের উপর পড়েছিলেন। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
রাঁচি পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা অনীশ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ভাবে এটা আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কী কারণে ঝা পরিবারের সাতজন সদস্য একইসঙ্গে আত্মহত্যা করলেন এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছে রাঁচি পুলিশ।