
উদ্ধার হওয়া নগদ এবং সোনা
শেষ আপডেট: 11 December 2024 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ১৯ জন ইঞ্জিনিয়ারকে শো-কজ করেছিল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পষ্টাপষ্টিই সেদিন বলেছিলেন, “মানুষের ভাগে অন্য কাউকে ভাগ বসাতে দেব না। সরকারি সম্পত্তি নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ মেটাতে দেব না।” মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই কথার পরই অভিযানে নেমেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরে এগরা পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৭ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে প্রচুর সোনাদানা। এমন একটা সময়ে সেই তল্লাশি অভিযান চলেছে যখন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন ওই জেলাতেই। এগরার অদূরে দীঘায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে এগরা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কসবা-এগরা এলাকায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার চন্দন দাসের বাড়িতে এবং কলকাতার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা। সূত্রের খবর, ওই ইঞ্জিনিয়ার এগরা পুরসভায় কর্মরত থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এরপর তাঁকে ধূপগুড়ি পুরসভায় বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি অবসর নেবেন।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের কাজে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে ১৫৫ জন ঠিকাদার, ১৯ জন ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ করা হয়েছে। এই বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পানীয় জল নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর থেকেই। শুধু এই জেলা থেকেই পাইপ লাইনের কাজে অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে ৩ হাজার ৮৯৩ টি। তাই এগরার পুরসভার প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে ৭ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করবে তা স্বাভাবিক।
মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য ছিল, অনেকে পাইপ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। ফলে গ্রামে জল ঢুকতে পারছে না। এটাব আইনি অন্যায়, ক্রিমিনাল অফেন্স। দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। স্পষ্ট বার্তা ছিল, কোনও নেতার কথা শুনবেন না, কোনও রাজনৈতিক দলের কথা শুনবেন না। কেউ যেন কম্প্রোমাইজ না করে। তারপরই এই টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল।