বাঁকুড়া পুরসভার সামনে নির্মীয়মাণ মহার্ঘ্য এই শৌচালয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কাটমানি ইস্যুতে পুরসভাকে বিঁধে সরগরম সমাজ মাধ্যমও।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া পুরসভার সামনে দু'কামরার টয়লেট তৈরিতে বরাদ্দ হল সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা। বোর্ড নজরে আসতেই কাটমানি ইস্যুতে তোলপাড় বাঁকুড়া।
শহরাঞ্চলে সরকারি আবাস প্রকল্পে আস্ত বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ যেখানে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার আর গ্রামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সেখানে শৌচালয় তৈরির জন্য সরকারি বরাদ্দের এই অঙ্ক শুনে চমকে যাচ্ছেন অনেকেই। বাঁকুড়া পুরসভার সামনে নির্মীয়মাণ মহার্ঘ্য এই শৌচালয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কাটমানি ইস্যুতে পুরসভাকে বিঁধে সরগরম সমাজ মাধ্যমও।
বাঁকুড়া পুরসভার সামনে পুরোনো একটি টয়লেট ভেঙে সে জায়গায় সম্প্রতি দুকামরার একটি টয়লেট তৈরির কাজ শুরু করে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা। নিয়ম মেনে ওই নির্মাণ কাজের তথ্য সম্বলিত বোর্ড লাগানো হয় পুরসভার সামনে। বোর্ড দেখেই চমকে ওঠেন পথচলতি মানুষ। দেখা যায় ওই টয়লেট ব্লক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৩৩ টাকা। যা দেখে রীতিমতো অবাক বাসিন্দারা। অনেকে মহার্ঘ্য এই টয়লেট ব্লকের তথ্য সম্বলিত বোর্ডের ছবি তুলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন।
আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি পোস্ট করে সরাসরি পুরসভার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, আবাস প্রকল্পে শহরাঞ্চলে আস্ত বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ। ওই টাকায় যেখানে উপভোক্তারা এক কামরার বাড়ি, বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচালয় তৈরি করে থাকেন সেখানে পুরসভার ২ কামরার শৌচালয় তৈরি করতে কেন এত বিপুল বরাদ্দ হবে? বরাদ্দ অর্থ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই তড়িঘড়ি নির্মাণকারী সংস্থা নির্মাণের ওই বোর্ড সরিয়ে ফেলে।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, "একটা শৌচালয় তৈরি করতে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হবে কেন? কাটমানি দেওয়ার হিসেব কষেই এই বরাদ্দ করা হয়েছে। মানুষ যে পুরো হিসেব বুঝতে পারছে, ২৬ এর ভোটেই তা প্রমাণ হবে।"
তবে বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার বলেন, "একদম অত্যাধুনিক একটি টয়লেট তৈরি হয়েছে। সব রকম সুযোগ সুবিধা থাকছে সেখানে। অর্থ বরাদ্দ করেছে সুডা (স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট অথোরিটি)। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সেই কাজ করাচ্ছে পুরসভা। আধুনিক সমস্ত ব্যবস্থা সহ ওই শৌচালয় তৈরির পরিকল্পনা থাকাতেই বেশি পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।"