দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চে দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদে তবলিঘি জামাতে অংশ নেওয়া অন্তত ১০৯৫ জনের খোঁজে জারি করা লুক আউট নোটিস ইতিমধ্যেই ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আসে ৬৩০ জন জামাত সদস্য এ দেশ ছেড়ে নিজের দেশে ফিরেও গেছেন। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এ বিষয়ে জানান, মহামারী আইনের আওতায় তাঁদের জন্য লুকআউট নোটিস জারি করা হয় এবং তার জেরে ভিসার সমস্যা তৈরি হয়। এই কারণে তবলিঘি জামাতে যোগ দিতে আসা বহু বিদেশি সদস্য আটকে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে যে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছিল তা বাতিল করে তাঁদের নিজের দেশে ফেরানোর কাজও শুরু হয়েছে।
একটি অনলাইন সাংবাদিক বৈঠকে অনুরাগ বলেন, "আমরা সমস্ত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, গোটা পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের জানিয়ে রাখছি। অগস্টের ২৪ তারিখের মধ্যে ১০৯৫টি লুকআউট সার্কুলার ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। ৬৩০ জন সদস্য ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে ফিরেও গেছেন।"
মার্চ মাসের মাঝামাঝি দিল্লির নিজামুদ্দিন দরগায় যে তবলিঘিদের জমায়েত হয়, তাতে বিদেশ থেকে বহু মানুষ এসে যোগ দিয়েছিলেন। দেশের নানা প্রান্তের হাজার তিনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন সেখানে। যদিও কোনও জমায়েত তখনও দেশে নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়নি তখন, তবু পরবর্তীকালে করনো সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয় এই জমায়েতই।
এ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও বয়ে গেছে দেশজুড়ে। একইসঙ্গে চারিয়ে যায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষও। এর পাল্টা প্রতিবাদে অভিযোগ ওঠে, যেটা ভুল বা অন্যায়, সেটা সেই চোখেই দেখা হোক। বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণার চেখে নয়।
ওই জমায়েতে যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছিলেন তাঁদের খোঁজে মহামারী আইনের আওতায় লুকআউট নোটিস জারি করে বিদেশ মন্ত্রক। তার জেরে প্রভাব পড়ে তাঁদের ভিসাতেও। শেষ কয়েক মাসে পরিস্থিতি অনেকটাই বদল হয়েছে. শুধু নিজামুদ্দিন যোগে নয়, সারা দেশেই নানা কারণে আরও সংক্রামিত হয়েছে করোনা।
সম্প্রতি থানে আদালত ২৮ জন জামাত সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। করোনা সংক্রমণের সময়ে বিদেশি নাগরিকরা ভিসা আইন লঙ্ঘন করায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে বম্বে হাইকোর্টও দিল্লির নিজামুদ্দিনে যোগ দেওয়া ২৯ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করে দেয়। মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আরএইচ ঝা বলেন, তবলিগি জামাতের ২৮ জন সদস্যকে অব্যাহতি দিতে হবে।
এর পরেই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে লুকআউট নোটিসগুলি ডিলিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি নাগরিকদের ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।