দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত এক সপ্তাহের হিসাবে দেখা গিয়েছে, উত্তর-পূর্বের প্রতি পাঁচ জেলার তিনটিতেই কোভিড পজিটিভিটি রেট ১০ শতাংশের বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ৫ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের মোট ৫৪ টি জেলায় পজিটিভিটির হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। তার মধ্যে ৩৭ টি জেলাই উত্তর-পূর্ব ভারতের।
সংখ্যার বিচারে দেশের অনেক বড় রাজ্যের তুলনায় উত্তর-পূর্ব ভারতে সংক্রমণ কম। কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেশে যেখানে পজিটিভিটি রেট ২.২১ শতাংশ, উত্তর-পূর্বে সেই তুলনায় পজিটিভিটি অনেক বেশি। গত ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে চিঠি দিয়ে এসম্পর্কে উদ্বেগের কথা জানানো হয়। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এ কে ভাল্লা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে বলেন, সেখানে আরটি পিসিআর টেস্ট আরও বাড়াতে হবে। কোভিড সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য তৈরি করতে হবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।
মণিপুরে গত সপ্তাহে পজিটিভিটি রেট ছিল ১৪.৬৯। রাজ্যের আটটি জেলায় পজিটিভিটি রেট ছিল ১০ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে চিকিৎসকদের সংগঠন আইএমএ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, আত্মসন্তুষ্টির কারণ নেই। শীঘ্রই আসছে অতিমহামারীর তৃতীয় ওয়েভ। আইএমএ-র বক্তব্য, চিকিৎসক এবং রাজনীতিকদের যৌথ উদ্যোগে সদ্য করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ পেরিয়ে এসেছে দেশ। অতিমহামারীর ইতিহাস থেকে দেখা যায়, তৃতীয় ওয়েভ আসবেই। কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হল, এই অবস্থায় দেশের নানা প্রান্তে জমায়েত হচ্ছে। মানুষ কোভিড বিধি মানছেন না।
আইএমএ বলেছে, “পর্যটন, তীর্থযাত্রা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সবকিছুরই প্রয়োজন আছে। কিন্তু তা কয়েক মাস বন্ধ থাকা উচিত। কারণ মানুষ যদি ভ্যাকসিন ছাড়াই বড় জমায়েত করে, তাহলে তা সুপার স্প্রেডারের ভূমিকা নেবে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শুরু হবে দ্রুত।” চিকিৎসকদের মতে, গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, দু’টি উপায়ে কোভিডের তৃতীয় ঢেউকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। প্রথমত, সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে।
সোমবার জানা যায়, দেশের দৈনিক কোভিড সংক্রমণ এখন ৩৭ হাজারের কোঠায়। দৈনিক সংক্রমণের হার কমলেও দেশের কয়েকটি রাজ্যে এখনও কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার চিন্তার কারণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, রবিবারে দৈনিক সংক্রমণের হার ধরা পড়েছিল ২.২৫ শতাংশ। কিন্তু মহারাষ্ট্র, কেরল সহ ১৭টি রাজ্যের ৬৬টি জেলায় এখনও সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি। আর সংক্রমণের হার বেশি হওয়া মানে একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি।