দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার অসমের নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ হতেই নবান্নে বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। তিনি সেই মুহূর্তেই জানিয়েছিলেন, শিগগির তাঁর দলের এক সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে তিনি অসমে পাঠাবেন। বৃহস্পতিবার সেই মোতাবেক তৃণমূলের ৬ সাংসদ রওনা হয়েছিলেন অসমের শিলচরের উদ্দেশে। ঠিক ছিল, এনআরসি-র বিরোধিতা করে শিলচরে একটি নাগরিক প্রতিবাদ সভায় যোগ দেবেন তাঁরা। কিন্তু তা করতে দেওয়া দূর, শিলচর বিমানবন্দরে নামতেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ ও সিআরপি।
প্রতিনিধি দলের দুই তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, তাঁরা বিমানবন্দরে নামতেই শিলচরের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার তাঁদের জানান, বাইরে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সুতরাং তাঁদের বিমানবন্দরের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তৃণমূল সাংসদরা তখন তাঁকে বলেন, সভা করতে দেওয়া না হোক, তাঁদের অন্তত হোটেল-গেস্ট হাউজে যেতে দেওয়া হোক। কিন্তু তাতেও আপত্তি করে পুলিশ। উল্টে তাঁদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জ সংলগ্ন একটি ঘরে ঢুকতে বলা হয়। তাতে রাজি না হলে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সুখেন্দুবাবু ও কাকলি ঘোষদস্তিদার। সুখেন্দুবাবু জানান, সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর, অর্পিতা ঘোষ এবং বিধায়ক মহুয়া মৈত্রকেও হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁরা যাতে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন সে জন্য এক সময় পুলিশের লোকজন ফোন নিয়েও টানাটানি করেন।
দেখে নিন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=7LV5K7EX2es&feature=youtu.be
যদিও অসম প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সাংসদদের সুষ্ঠু ভাবেই সব বোঝানো হয়েছিল। নাগরিক পঞ্জির জন্য অসমে এমনিতে পরিস্থিতি এখন খুবই স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। সেই কারণে গোটা রাজ্যে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী আধা সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে। রাজ্যে শান্তি কায়েম রাখতেই তৃণমূল সাংসদদের অনুরোধ করা হয়েছে ফিরে যেতে।
তবে তৃণমূলের দাবি, অসম প্রশাসন ও পুলিশের আচরণকে কোনও ভাবেই ভদ্র বলা যেতে পারে না। এ ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে এ দিন লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও ক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। শিলচর বিমানবন্দরে তৃণমূল সাংসদদের নিগ্রহ করার জন্য স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতেও আবেদন করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিকেলে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ছ'জন সাংসদ, এক জন মন্ত্রী ও এক জন বিধায়ককে অনৈতিক ভাবে আটক করা হয়েছে শিলচর বিমানবন্দরে। ওঁরা আইন ভাঙতে যাননি। তবু ওঁদের মার খেতে হল। বয়স্কদের ধাক্কাধাক্কি করা হল, মহিলাদের হেনস্থা করা হল। এটা কি গণতন্ত্র! এটা রীতিমতো আপৎকালীন অবস্থা। লোকসভায় এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন সৌগত রায়। দেখে নিন টুইট।
https://twitter.com/AITCofficial/status/1024967272761196545
প্রসঙ্গত, বুধবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, শুধু তাঁর দলের প্রতিনিধিরা নন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও অসম সফরে যেতে পারেন। কিন্তু তখনই বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছিল, তৃণমূল প্রতিনিধিদের বিমানবন্দরেই আটকে দিতে পারে পুলিশ। তা ছাড়া রাজনৈতিক সূত্রে এ-ও বলা হচ্ছিল, তৃণমূল সাংসদরা গুয়াহাটিতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিলচরে বাঙালিদের সংখ্যা তুলনায় বেশি। হয়তো সেই কারণে তাঁরা শিলচরেই যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও যে এমন হেনস্তা হতে হবে সম্ভবত আঁচ করতে পারেননি মহুয়া-মমতা বালারা। তাঁদের বিমানবন্দরের বাইরে যেতে না দেওয়ায় তাঁরা ফোন করে দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান। মমতাই তাঁদের বলেন, বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে।
তবে এ ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা সমালোচনা করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ বলেন, “তৃণমূল ভাল করেই জানে অসমে উত্তেজনার পরিস্থিতি রয়েছে। তার পরেও গেছেন কেন? ওঁদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া উচিত।” তাঁর বক্তব্য, “বাংলায় ধূলাগড়ে যখন বিজেপি নেতারা যেতে চেয়েছিলেন, তখন যেতে দিয়েছিল কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? পুলিশ তখন বলেছিল, উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে আপনাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তা হলে অসমে কেন উত্তেজনা ছড়াতে গিয়েছেন ওঁরা। পুলিশ যা করেছে বেশ করেছে।”
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, সাংসদরা শিলচরে উত্তেজনা ছড়াতে গিয়েছেন। তাঁদের আটকে রেখে ঠিক করেছে। পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জি তৈরির দাবিতে এ দিন দুপুরে কলকাতায় মিছিল করেছে বিজেপি।