অন্য রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আরও ৬ অভিবাসী শ্রমিক প্রাণ হারালেন উত্তরপ্রদেশের তিনটি দুর্ঘটনায়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যু হল আরও ৬ জন অভিবাসী শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরপ্রদেশের তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা। জানা গেছে, দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন ওই ৬ শ্রমিক। বাড়ির প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তাঁর
শেষ আপডেট: 15 May 2020 05:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যু হল আরও ৬ জন অভিবাসী শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরপ্রদেশের তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা। জানা গেছে, দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন ওই ৬ শ্রমিক। বাড়ির প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তাঁরা। আর দুয়েক ঘণ্টা পরেই বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। তা আর হল না।
জানা গেছে, গুজরাত থেকে পায়ে হেঁটে উত্তরপ্রদেশের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন সাত জন শ্রমিক। আর ১০০ কিলোমিটার মতো পথ বাকি ছিল। তখনই বরাবাঁকি এলাকায় মারাত্মক এক পথ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় শ্রমিকদের ওই দলটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিন জন। সাত জন গুরুতর জখম, লখনউয়ের হাসপাতালে ভর্তি তাঁরা।
ট্রাকে করে আরও এক দল শ্রমিক মহারাষ্ট্র থেকে ফিরছিলেন উত্তরপ্রদেশে। বাহরাইচের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায় ট্রাকটি। এক জন শ্রমিক মারা যান ঘটনাস্থলেই আরও ৩২ জন জখম হয়ে ভর্তি হাসপাতালে।
জালাউন এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান আরও ২ শ্রমিক।

মোট ৬ জন শ্রমিক তিনটি দুর্ঘটনায় পিষে গেলেন পথেই। বাড়ি ফেরা হল না তাঁদের। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণ হারানোর ঘটনা খুব বেশি সংখ্যায় সামনে আসছে গত কয়েক দিনে। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই আট জন শ্রমিক মধ্যপ্রদেশে এবং ৬ জন উত্তরপ্রদেশে মারা যান পথ দুর্ঘটনায়। গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের কাছে ১৬ জন শ্রমিক ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিলেন মালগাড়ির চাকায়।
সরকারি হিসেবে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যাটা প্রায় ১০০ ছুঁতে চলেছে। কিন্তু বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বেশি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে আচমকা লকডাউন শুরু হওয়ায় বিপদে পড়েন দেশের নানা প্রান্তে কাজ করতে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকরা। আচমকা কাজ বন্ধ হয়ে যায় তাঁদের, বন্ধ হয়ে যায় রোজগার। খাবার টাকা নেই, টাকা নেই বাড়িভাড়া দেওয়ার। তার উপরে অসুখের আতঙ্ক।

হাজার হাজার শ্রমিক মরিয়া হয়ে বাড়ির পথ ধরেন পায়ে হেঁটেই। কেউ ভফিরতে পারেন দীর্ঘ চেষ্টায়, কারও বা পথেই ফুরোয় প্রাণ। একের পর এক আশ্চর্য গল্পও সামনে আসে। কোথাও সদ্য জন্ম দেওয়া সন্তানকে বুকে নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার হেঁটেছেন প্রসূতি, কোথাও আবার বৃদ্ধ বাবাকে পিঠে নিয়ে চলেছে সন্তান। কোনও ছোট্ট ছেলে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে স্যুটকেসের উপরেই। সব মিলিয়ে বারাবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এ দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা ও অবস্থান।
গতকাল রাতে আরও ছ'জনের মৃত্যু সেই ক্ষতই আরও একটু বাড়াল।