দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দেশবিরোধীদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এদিন সন্ধ্যায় শোনা গেল, মৃত্যু ঘটেছে ছ'জন বিক্ষোভকারীর। পুলিশ সূত্রে খবর, বিজনৌরে মারা গিয়েছেন দু'জন বিক্ষোভকারী। সম্ভাল, ফিরোজাবাদ, মেরঠ ও কানপুরেও একজন করে মারা গিয়েছেন। তবে পুলিশের গুলিতে কারও মৃত্যু হওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ও পি সিং বলেছেন, আমরা একটিও গুলি চালাইনি। পুলিশের গুলিতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।
শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরপুর, বাহরাইচ, বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর, ফিরোজাবাদ, আলিগড় এবং ফারুখাবাদ জেলা থেকে বিক্ষোভ ও হিংসার খবর পাওয়া যায়। ওইসব অঞ্চলে পথে নামে হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
দু'মিনিটের এক ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্যের পূর্ব প্রান্তে গোরক্ষপুরে এক সরু গলির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে জনতা। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। দাঙ্গাহাঙ্গামা ঠেকানোর জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। পুলিশের কয়েকজনের হাতে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল। জনতাকে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করছে। পাথর ছুড়ছে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশকেও জনতার উদ্দেশে পাথর ছুড়তে দেখা গিয়েছে।
রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তে বুলন্দশহর জেলায় একটি পুলিশ জিপ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন বেলা তিনটে থেকে জেলায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার বলেন, "আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
লখনউতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার নমাজের আগে শহরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শহরে এদিন দুপুর পর্যন্ত কোনও সংঘর্ষ হয়নি। যদিও শহরের বাজারগুলি এদিনও ছিল শুনশান। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।