দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ফুটপাথে ঘুমন্ত অবস্থায় চলে গেল ৬টি তাজা প্রাণ! বুধবার গভীর রাতে বেপরোয়া ট্রাকের চাকা পিষে দিল আগ্রার ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ফুটপাথে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারকে।
জানা গেছে, ওই ফুটপাথেই ১২ মাস বসবাস করেন মানুষগুলি। বুধবার রাতেও প্রতিদিনের মতোই খাওয়া-দাওয়া সেরে অস্থায়ী ছাউনি খাটিয়ে ঘুমোতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সারাদিনের পরিশ্রমের ক্লান্তিতে ঘুম আসতে সময় লাগে না বেশি। কিন্তু ভাবতেও পারেননি, এই ঘুমই শেষ ঘুম হবে।
গভীর রাতে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ছুটে আসা এক বিশাল ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা উঠে পড়ে ওই ফুটপাথেই। গুরু কা তাল গুরুদুয়ারার উলটো দিকের ওই ফুটপাথে চোখের নিমেষে থেঁতলে যায় সবকিছু। ট্রাকটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে ছিটকে। আরও তিন জন জখম হন ওই ফুটপাথেই ঘুমিয় থাকা মানুষদের মধ্যে।
গভীর রাতেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্পেশ্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ বাবু কুমার। আহত তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। তাঁদের পরিচয় খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরা করা হচ্ছে তাদের।
পথে ঘুমন্ত অবস্থায় পিষে যাওয়ার ঘটনা এ দেশে নতুন নয়। মাস কয়েক আগেই এভাবেই ট্রেনের চাকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। গত বছর উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের ফুটপাথে বাসের চাকায় থেঁতলে মারা গিয়েছিলেন ৭ জন বৈষ্ণোদেবী যাত্রী।
শহর কলকাতাও এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল বছর তিনেক আগে। খিদিরপুরের ফ্যান্সি মার্কেটের কাছে মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রেলার ফুটপাথে উঠে গেলে, ছ’বছরের একটি শিশু মারা যায়।
মুম্বইয়ের ফুটপাথে সলমন খানের গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা তো সকলেই জানেন। এভাবেই বারবার গতির বলি হয়েছেন ফুটপাথের মানুষগুলি। কখনও উঠেছে প্রশ্ন, কখনও সমালোচনা। কখনও শাস্তিও হয়েছে অভিযুক্ত চালকের। তবু বন্ধ হয়নি এই মর্মান্তিক ঘটনা।