দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার ভারতে কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হওয়ার পরে সোমবার পর্যন্ত মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ৫৮০ জনের শরীরে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। মারা গিয়েছেন দু'জন। যদিও সরকারের দাবি, এই মৃত্যুর সঙ্গে ভ্যাকসিনের সম্পর্ক নেই।
সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক ব্যক্তি ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে মারা গিয়েছেন। তাঁর নাম ছিল মহীপাল সিং। বয়স হয়েছিল ৪৬। তিনি সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিলেন। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা আগে তাঁকে টিকা দেওয়া হয়। জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন, মহীপালের মৃত্যুর সঙ্গে টিকা দেওয়ার সম্পর্ক নেই।
মহীপালের দেহের ময়না তদন্তে দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর কারণ 'কার্ডিওজেনিক শক/সেপ্টিসেমিক শক'। তাঁর কার্ডিও পালমোনারি ডিজিজ ছিল। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, টিকা নেওয়ার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।
টিকা নেওয়ার পরে কর্নাটকের বেল্লারিতে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। তাঁর নাম ছিল নাগরাজু। সরকার জানিয়েছে, কার্ডিও পালমোনারি ফেলিওরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দেহের ময়না তদন্ত এখনও করা হয়নি।
কর্নাটক রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরদিন সকালেও নাগরাজু কাজে আসেন। তখনই তাঁর বুকে ব্যথা হতে থাকে। তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে সুধাকর বলেন, ভ্যাকসিনের জন্য নাগরাজুর হার্ট অ্যাটাক হয়নি। তাঁর কথায়, "ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে নাগরাজু মারা গিয়েছেন। তাঁর ডায়াবেটিস ও অন্যান্য গুরুতর রোগ ছিল।"
ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তিনজন দিল্লির বাসিন্দা। তাঁদের দু'জনকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দিতে হয়েছে। একজন এখনও ম্যাক্স হসপিটালে চিকিৎসকদের অবজারভেশনে রয়েছেন। কর্নাটকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দু'জন। তাঁদের একজনকে এখনও অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশে এইমসে এক ব্যক্তি অবজারভেশনে আছেন। অপরজন ছত্তিসগড়ের রাজনন্দনগাঁওতে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সোমবার মোট ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২৬৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। রবিবার ছ'টি রাজ্যে টিকাকরণ হয়েছিল। সোমবার হয়েছে ২৫ টি রাজ্যে। বেশিরভাগ রাজ্যে প্রতিটি টিকাকরণ কেন্দ্র থেকে দিনে ১০০ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তেলঙ্গানায় প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক টিকা দেওয়া হচ্ছে ৩০ জনকে। প্রথম দফায় ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ২ কোটি সম্মুখসারির কোভিড যোদ্ধাকে টিকা দেওয়া হবে। পরের দফায় টিকা দেওয়া হবে আরও ২৭ কোটি মানুষকে। যাঁদের বয়স ৫০-এর ওপরে অথবা যাঁদের জটিল রোগ আছে, তাঁরা এই দফায় ভ্যাকসিন পাবেন।