
শেষ আপডেট: 24 December 2023 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ৫৮ বছর। সরকারি মতে, অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ বছর। অর্থাৎ খাতায়-কলমে আর মাত্র ২ বছর আছে হাতে। এই কদিন মাত্র চাকরি করার জন্যই টেট পরীক্ষা দিতে এসেছেন এক পরীক্ষার্থী। নাম ওমপ্রকাশ মিশ্র। তাঁকে অ্যাডমিট কার্ড হাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেখে অনেকেরই চোখ ছানাবড়া!
আজ ২৪ নভেম্বর রাজ্য সরকারের তরফে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট অর্থাৎ টেট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী এদিন পরীক্ষায় বসছেন। তাঁদেরই একজন হলেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। তাঁর বয়স ৫৮ বছর। শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি এবং চাকরির আকাল নিয়ে যেখানে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, সেখানে বেশি বয়সে এবং একাধিকবার টেট পরীক্ষায় বসছেন, এমন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাই বলে ৫৮ বছর বয়সে? আর তা সম্ভবই বা কেমনভাবে! রাজ্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পরীক্ষায় বসার জন্য বয়সের যে ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা তো তিনি বহু বছর আগেই পেরিয়ে গেছেন!
ওমপ্রকাশ মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি আসলে একজন প্যারা টিচার। তাই অবসর গ্রহণের বয়স অর্থাৎ ৬০ বছর পর্যন্তই টেট পরীক্ষায় বসার জন্য যোগ্য তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তারপর ২০১৭ এবং ২০২২ সালে ফের পরীক্ষা হলেও সেগুলিতে অংশ নেননি তিনি। তবে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে ২০২৩ সালে আরও একবার প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষায় বসছেন ওমপ্রকাশ। পাশ করবেন কিনা, করলেও নিয়োগ দুর্নীতির জট কেটে আদৌ অবসর গ্রহণের আগে চাকরি পাবেন, তা নিয়ে যদিও সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের ১১,৭৬৫টি শূন্যপদ পূরণের জন্যই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গৌতম পাল ঘোষণা করেছিলেন, এবার থেকে প্রতি বছর টেট হবে। সেই মোতাবেক ২০২২ সালে ১১ ডিসেম্বর হয় টেট। যদিও এখনও সেই টেটের নিয়োগ হয়নি। আটকে আছে আইনি জটে। তার মধ্যেই এবারের টেট নেওয়া হচ্ছে! প্রাথমিকভাবে ১০ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে ২৪ ডিসেম্বর করা হয়।
এবারে রাজ্যে মোট ৭৭৩টি কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে টেট। তার মধ্যে কলকাতায় ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকছে কড়া নিরাপত্তা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে পর্ষদ। তাই এই পরীক্ষায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হয়েছে।