
শেষ আপডেট: 7 May 2020 18:30
লস অ্যালমসের ভাইরোলজিস্টরা বলছেন জিনের গঠনের এই বদল বা মিউটেশন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতে। প্রায় ৫০% ভাইরাল স্ট্রেনের মিউটেশন হয়েছে ভারতেই। অস্ট্রেলিয়ার ‘কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন’ (CSIRO)-এর ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী এসএস ভাসান বলেছেন, ভারতীয়দের শরীর থেকে নেওয়া ৮২টি নমুনার মধ্যে যে ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া গেছে তার ৫০ শতাংশই জিনের গঠন বদলে ফেলেছে। এই মিউটেশনের নাম দেওয়া হয়েছে D614G।
কাঁটার মতো খোঁচা খোঁচা দেখতে ওই অংশগুলোই ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন। মানুষের শরীরের ঢোকার জন্য এই স্পাইক প্রোটিনরা কোষের মধ্যে তাদের বন্ধু প্রোটিন খুঁজে নেয়। যার সঙ্গে জোট বেঁধেই কোষে ঢোকার রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের দেহকোষের এই প্রোটিন হল ACE-2 । এই প্রোটিনই ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করছে। শরীরের যে যে অঙ্গের কোষে এই প্রোটিন রয়েছে সেখানেই গিয়ে জুড়ে বসছে ভাইরাস। তারপর এই বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে কোষের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। একবার দেহকোষে ঢুকতে পারলেই কেল্লাফতে। যতখুশি প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বেড়ে চলেছে এরা।
ভারতের সিএসআইআর-এর ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির গবেষক ডক্টর বিনোদ স্কারিয়াও রয়েছেন এই গবেষণায়। ডক্টর ভাসান ও ডক্টর বিনোদ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরও-তে ৭,১৭৬ ভাইরাস জিনোম নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে কোভিড রোগীদের নমুনায় পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের জিনের গঠন বিন্যাস পাঠানো হয়েছে সেখানে। তার মধ্যে থেকে ভারতীয়দের শরীরে পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের ৫০% র মধ্যে এই মিউটেশন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বদল হয়েছে ওই স্পাইক প্রোটিনেরই।
গবেষকরা বলছেন, সাধারণ ফ্লু যখন মহামারী হয় তার মধ্যে এক আধটা ভাইরাল প্রোটিনের বদল ঘটে, যাকে বলে ‘পয়েন্ট মিউটেশন’ (Point Mutation) । অর্থাৎ এক বা সিঙ্গল অ্যামাইনো অ্যাসিডের বদল। কিন্তু করোনার মধ্যে সেই পরিবর্তন লাগামছাড়া। এত বেশিবার মিউটেশনের ফলে করোনাভাইরাসের প্রকৃত চরিত্র ও রাসায়নিক গঠন বিজ্ঞানীদের কাছে অধরাই থেকে যাচ্ছে। এই ভাইরাসকে নির্মূল করার দাওয়াই তাই এখনও বার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।