দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিটামিন ডি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেনি। তবে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে জটিল রোগের দাওয়াই হতে পারে ভিটামিন ডি। বিশেষত করোনা সংক্রমণে রোগীর নানা অঙ্গে যে রোগ দেখা দিচ্ছে অর্থাৎ মাল্টি অর্গান ফেলিওরের ঝুঁকি কমাতে পারে ভিটামিন ডি। নতুন গবেষণায় এমনটাই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা বলছেন, মাল্টি অর্গান ফেলিওরে রোগী মৃত্যুর হার কমাতে পারে ভিটামিন ডি। সাইটোকাইন স্টর্ম ও তার ফলে তীব্র প্রদাহ কমাতে পারে, কিডনি ও ফুসফুসের সংক্রমণ রুখতে পারে, শরীরে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া থামাতে পারে, করোনা সংক্রমণের কারণে হার্টের রোগ থেকে রেহাই দিতে পারে।
সাইটোকাইন স্টর্ম রুখতে পারে ভিটামিন ডি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে সাইটোকাইন প্রোটিনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই সাইটোকাইন প্রোটিন কোষে কোষে বিপদ সঙ্কেত পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। এই প্রোটিনের নিঃসরণ বেড়ে গেলে বিপদবার্তা পৌঁছে দেওয়ার বদলে কোষেরই ক্ষতি হয়। এই প্রোটিনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে তীব্র প্রদাহ হয় দেহকোষে। গবেষকরা বলছেন, সাইটোকাইনের মতো ব্র্যাডিকাইনিন প্রোটিনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলেও প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হতে পারে।
এই প্রোটিন নিঃসরণের জন্য দায়ী হেল্পার টি-কোষ। এই টি-কোষ তথা টি-হেল্পার সেল টাইপ ১-এর সক্রিয়তা বেড়ে গেলে ইনফ্ল্যামেটারি সাইটোকাইনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। তখনই তীব্র প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয় রোগী। ভিটামিন ডি এই হেল্পার টি-কোষের সক্রিয়তা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হতে পারে না।
ফুসফুসের সংক্রমণ কমায়
গবেষকরা বলছেন, ফুসফুসের সংক্রমণ ঠেকাতেও ভূমিকা নেয় ভিটামিন ডি। ভাইরাল সংক্রমণ হলে ভিটামিন ডি অ্যাকটিভ হয়ে ক্যাথেলিসিডিন নামে উপাদান তৈরি করে। এই উপাদান ফুসফুসের যে কোনও সংক্রমণ ঠেকাতে পারে। হাইপারঅক্সিয়ার ঝুঁকি কমায়। শ্বাসপ্রশ্বাসের চলাচল সঠিক রাখতে পারে।
ডায়াবেটিসে কিডনি ফেলিওর ঠেকায়
ডায়াবেটিসের রোগীদের করোনা সংক্রমণের ভয় সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক আগেই বলেছে, দেশে প্রায় ৬৫ শতাংশ কোভিড রোগীরই ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন রয়েছে। তাছাড়া, ফুসফুস ও কিডনির ক্রনিক রোগ তো রয়েছেই। গবেষকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের রোগীদের কোভিড সংক্রমণ হলে কিডনি ফেলিওরের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে কিডনির সংক্রমণ ঠেকাতে পারে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ডি। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, কোষের রিসেপটর তথা অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম-২ (ACE-2) ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ভিটামিন ডি কিডনিতে এই রিসেপটর প্রোটিনের কার্যকারীতা কমিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাল প্রোটিন আর কোষের রিসেপটরকে চিহ্নিত করতে পারে না। ফলে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়
গবেষকরা বলছেন, অ্যাঞ্জিওটেনসিন-২ (Ang II) হরমোন রক্তচাপ বাড়ায়। এসিই-২ প্রোটিন এই হরমোনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে এসিই-২ প্রোটিনের সঙ্গে ভাইরাল প্রোটিন জুড়ে যায়। ফলে এই হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে গিয়ে কার্ডিয়াক রোগ হয়। কিডনি থেকে নিঃসৃত রেনিন প্রোটিনও এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুরের শরীরে ভিটামিন ডি রিসেপটর নেই। তাই রেনিন ও অ্যাঞ্জিওটেনসিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে পরীক্ষা করা দেখা গেছে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট যোগ করলে এই হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। হার্টের রোগের ঝুঁকি কমে।