
শেষ আপডেট: 27 May 2023 07:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে সোমবার দিল্লিতে বসতে চলেছে নীতিআয়োগের বৈঠক (Niti Aayog Meeting)। সেই বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন না। তিনি সিদ্ধান্ত বদল করে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈঠকে যোগ দেবেন না বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাও, তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, কর্নাটকের আর সিদ্দারামাইয়া এবং দিল্লি ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ভগবত মান (5 Chief Ministers including Mamata Banerjee will not attend)।
সাম্প্রতিক অতীতে এতজন মুখ্যমন্ত্রীর নীতি আয়োগের বৈঠকে না থাকার নজির নেই। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, অবিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদের কেন এই সিদ্ধান্ত। নীতীশ কুমার গত দেড় দু-বছরে একটি বৈঠকেও যাননি। বিহারে তিনি বিজেপির সঙ্গে থাকার সময়ও মোদীর ডাকা নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট করেছেন। এবারও তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এবং অর্থমন্ত্রী বিজয় কুমারকে পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র সবুজ সংকেত দেয়নি। যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় বৈঠকে অংশ নেওয়ার অনুমতি মেলেনি বাংলার অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লির রাজ্য সরকারের হাত থেকে অফিসারদের ট্রান্সফার-পোস্টিংয়ের ক্ষমতা যেভাবে অর্ডিন্যান্স করে কেন্দ্র নিজের হাতে নিয়েছে তা মানা যায় না। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তাঁর নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কটের পদক্ষেপ। তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীরা অবশ্য কোনও কারণ দর্শানোর চিঠি দেননি প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর দফতরকে। তবে লক্ষণীয় হল, বিহার বাদে বাকি রাজ্যগুলিতে রাজ্যপালদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধ চরম আকার নিয়েছে। দিল্লিতে কেজরিওয়াল সরকারের আপত্তি উপরাজ্যপালের কার্যকলাপ। পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানায় সংঘাতের মূলে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালেরা আটকে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েও পরিস্থিতির বদল হয়নি।
প্রশাসনিক মহলের মতে, স্মরণকালের মধ্যে এতজন মুখ্যমন্ত্রীর নীতি আয়োগের বৈঠকে না থাকার নজির নেই। এর পিছনে তাৎক্ষণিক কারণ ভিন্ন হলেও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নীতি আয়োগের বৈঠকের বিষয় এবং আলোচনার পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর আপত্তি আছে অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির। আগের যোজনা পরিষদের তুলনায় নীতি আয়োগের বহু ক্ষেত্রে মৌলিক ফারাকের একটি হল প্রতিষ্ঠানটি ক্রমে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রবীণ মুখ্যমন্ত্রীদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার জন্য গোটা একটি দিন এবং সরকারি টাকা খরচের অর্থ হয় না।
শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণই নয়, বৈঠকের এজেন্ডাও দিল্লি তৈরি করেছে। সেগুলি মূলত মোদী সরকারের কর্মসূচি। এবারও যেমন পিএম গতিশক্তি, বিকশিত ভারত-২০৪৭, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে কেন্দ্রের পরিকল্পনা আলোচ্য সূচিতে রয়েছে। অথচ, আগের যোজনা পরিষদ বা বর্তমান নীতি আয়োগের মূল ভাবনায় ছিল রাজ্যগুলিকেও সমানভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। সেই প্রক্রিয়া থেকে নীতি আয়োগ সরে গিয়েছে বলে অবিজেপি রাজ্যগুলির অভিযোগ।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদ মোদী সরকার অবিজেপি রাজ্যগুলির প্রাপ্য আটকে দিয়েছে নানা অভিযোগ তুলে। রাজ্য সরকারগুলিতে সাজা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। নীতি আয়োগের বৈঠকে প্রকল্পগুলি কথা হলেও টাকা আটকে দেওয়ার কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে নীতি আয়োগের কিছুই করণীয় নেই। সেই বৈঠকে গিয়ে এ নিয়ে বিলাপ করে লাভ হয় না। সে জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীদের অন্তত রাজনৈতিক লাভ হয়।
কংগ্রেস শাসিত রাজ্য, ছত্তীশগড়, হিমাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা শনিবারের বৈঠকে যোগ দেবেন। তবে দলীয় সূত্রের খবর, নীতিআয়োগ নিয়ে সোমবারই বৈঠক শেষে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার কথা।
মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতিনিধি হিসাবে রাজ্যের মন্ত্রীদের যোগদানে আপত্তি নিয়েও বহু রাজ্য ক্ষুব্ধ। তাদের বক্তব্য, এটা নিছকই সঙ্কীর্ণ প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তে মন্ত্রীরা যোগ দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না। অতীতে, যোজনা কমিশনের এই ধরনের বৈঠকে বাংলা থেকেই প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত একাধিকবার যোগ দিয়েছেন।
মোদী-শাহের অঙ্কটা কী? অ-হিন্দিভাষী লেখকদের হিন্দি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দিল কেন্দ্র