দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সন্ধ্যা ৮টা ১২ মিনিট। পরপর দু’বার কেঁপে উঠল মাটি। জোড়া ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়াল মণিপুরে।
ন্যাশনাল সেন্টার সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটা হয় সন্ধ্যা ৮টা ১২ মিনিট নাগাদ। এই কম্পনের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। কম্পনের উৎসস্থল মইরাং শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০ কিলোমিটার গভীরে। এই এলাকা মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার মধ্যে পড়ে।
দ্বিতীয় কম্পন অনুভূত হয় তার কিছুক্ষণ পরেই। এই কম্পনের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ২.৬। কম্পনের কেন্দ্রস্থল মইরাং শহর থেকেই ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। মণিপুরের পাশাপাশি কম্পন অনুভূত হয়েছে মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, গুয়াহাটি এবং অসমের বেশ কিছু অংশে।
চারদিন আগেই অর্থাৎ ২২ তারিখেও কেঁপে উঠেছিল মণিপুর। সে সময় কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩.৬। কম্পনের উৎসস্থল ছিল উখরুলের পূর্বে ৪৩ কিলোমিটার গভীরে। গতকালের জোড়া কম্পনে তাই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বেশ ভাল মতোই। বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন লোকজন। “আচমকাই দুলে ওঠে চারদিক। ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন সকলে। প্রথমবার কম্পনের মিনিটখানেকের মধ্যেই দ্বিতীয়বার কেঁপে ওঠে মাটি,” বলেছেন বিষ্ণুপুরের নিংথোউখং শহরের এক বাসিন্দা। কম্পন অনুভূত হয় ইম্ফলেও। তবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি।
২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মণিপুর। সেই সময় রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.৭। ভেঙে পড়েছিল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। প্রাণ গিয়েছিল আটজনের। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মণিপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী ইমা কেইথেল বাজার।
গত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে দেশের নানা প্রান্তে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে ১৫ মে-র মধ্যে দিল্লিতেই চার বার ভূমিকম্প হয়েছে। যদিও সেই কম্পনের তীব্রতা ছিল খুবই কম। রিখটার স্কেলে ২.২। গত ১৮ মে হিমাচল প্রদেশের চম্বায় ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে সেই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩.৫।