
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 18 November 2024 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাবের টাকার জালিয়াতিতে এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। উত্তর থেকে দক্ষিণ কমবেশি ৪৮৯ স্কুল অনলাইনে জালিয়াতির শিকার হয়েছে। তবে সরকার ঠিক করেছে, সোমবারই ছাত্রদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই জালিয়াতি চক্র নিয়ে সমান্তরাল তদন্ত চালিয়ে যাবে পুলিশ।
একাদশ শ্রেণির ছাত্রদের ট্যাব দেওয়ার জন্য সরকার ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে। কিন্তু সেই টাকার বন্টন শুরু হওয়ার সময়ে ভিন রাজ্য থেকে দেদার অনলাইন হ্যাকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহ খানেক ধরে গোটা বাংলায় এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে শিক্ষা দফতরের কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। যা কিছুটা বিড়ম্বনায় ফেলেছে সরকারকে।
সূত্রের খবর, কে বা কারা কোথা থেকে ট্যাবের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত তদন্তে অনেকটাই এগিয়েছে পুলিশ। তবে হ্যাকাররা কোথা থেকে পাসকোড পেল বা কে তাদের অ্যাকসেস দিল সে ব্যাপারে কিছু জানতে পারেনি পুলিশ।
তবে সরকার ঠিক করেছে, হ্যাকিংয়ের কারণে ছাত্ররা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করবে শিক্ষা দফতর। এ বিষয়ে স্কুল পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অধিকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে শিক্ষা দফতর স্থির করেছে, যারা ট্যাবের টাকা এখনও পায়নি, সোমবার থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুর জেলায় প্রতারণার ঘটনার সংখ্যা বেশি। এই দুই জেলায় প্রায় ৩০০ জন করে ছাত্রদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। সবচেয়ে কম প্রভাবিত জেলা হল আলিপুরদুয়ার।
এই প্রতারণার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪০১টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ৩ হাজার জন ছাত্রের ১০ হাজার টাকা করে টাকা অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। তদন্তকারীরা পুলিশ অফিসারদের সন্দেহ, সরষের মধ্যেও ভূত থাকতে পারে। শিক্ষা দফতর তথা শিক্ষকদের কেউ জালিয়াতির সঙ্গে জুড়ে থাকতে পারে। ব্যাক ক্যলকুশেন করে তাদের কাছেও পৌঁছে যেতে চাইছে পুলিশ।