শয়ে শয়ে কবর, সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো! মিশর পুরাতত্ত্বে নতুন আবিষ্কার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিশরে সন্ধান মিলল সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো সমাধিক্ষেত্রের। শনিবার বিখ্যাত গিজা মসজিদের কাছে এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রটি খুঁজে বার করেছে মিশরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, খনন চালানোর সময়ে ওই সমাধিক্ষেত্রের ভিতরে বিভ
শেষ আপডেট: 5 May 2019 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিশরে সন্ধান মিলল সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো সমাধিক্ষেত্রের। শনিবার বিখ্যাত গিজা মসজিদের কাছে এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রটি খুঁজে বার করেছে মিশরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, খনন চালানোর সময়ে ওই সমাধিক্ষেত্রের ভিতরে বিভিন্ন রঙের কারুকার্য করা কাঠের কফিন এবং সুন্দর সুন্দর চুনাপাথরের মূর্তি দেখতে পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, ওই কফিন ও চুনাপাথরের মূর্তিগুলো কয়েক হাজার বছর আগে ফ্যারাওদের আমলে তৈরি হয়েছিল।
ঐতিহাসিকরা জানিয়েছেন, গিজা পিরামিডের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর সমাধি তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে সব চেয়ে প্রাচীন হল, চুনাপাথরের তৈরি একটি পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র। ঐতিহাসিকদের মতে, যিশুখ্রিস্ট্রের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে পঞ্চম রাজবংশের আমলে এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি এই সমাধিক্ষেত্রটি আবিষ্কারের পরে খুব কম মানুষকেই সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যেই এক জন চিত্রসাংবাদিক ভিতরে গিয়ে ওই সমাধিক্ষেত্রের দেওয়ালে লাগানো নানা কাঠের কাঠামোর উপরে বিভিন্ন পশুপাখি ও মানুষের ছবি আঁকা থাকতে দেখেন। সেখানে এই ধরনের প্রচুর ছবি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যও ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
মিশরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই সমাধিক্ষেত্রটি পঞ্চম রাজবংশের দু’জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে এক জন ছিলেন ওই রাজবংশের পুরোহিত ও বিচারক আর অন্য জন ছিলেন ফ্যারাও খাফরে-র প্রধান সহযোগী।
ঐতিহাসিকরা জানাচ্ছেন, ফ্যারাও খাফরে মিশরের ফ্যারাওদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী এক সম্রাট ছিলেন। গিজা-র তিনটি বিখ্যাত পিরামিডের মধ্যে দ্বিতীয় পিরামিডটি ফ্যারাও খাফরে-র আমলেই তৈরি করা হয়েছিল। সদ্য আবিষ্কৃত সমাধিক্ষেত্রটির মধ্যে প্রচুর চুনাপাথরের তৈরি শিল্পকর্মও দেখা গেছে। যার মধ্যে একটি সমাধিতে এক পুরুষ, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের মূর্তিও রয়েছে।
গিজা পিরামিডের ডিরেক্টর জেনারেল আশরফ মহি জানান, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এই সমাধিক্ষেত্রটি এর আগে একাধিক বার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে খননের সময়ে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।