
শেষ আপডেট: 30 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাল আইসোলেশন ইউনিট। চারশোরও বেশি বেড। দরজা-জানলা শক্ত করে সাঁটা। তবে আধুনিক ব্যবস্থা আছে সবই। এমনই ইউনিটে রাখা হতে পারে চিন-ফেরত ভারতীয় নাগরিকদের। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় এমন ইউনিট তৈরি হয়েছে হরিয়ানার মানেসরের কাছে।
চিন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে যাত্রা করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৪৭। ৪৩০ সিটের এই জাম্বো বোয়িংয়ে চাপিয়ে উহান-সহ চিনের অন্যান্য শহরে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ জন ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হবে দেশে। বিমানবন্দরে থার্মাল-স্ক্রিনিংয়ের পরেই বাড়ি পাঠানো হবে না যাত্রীদের। বরং তাঁদের এক সপ্তাহের জন্য রাখা হতে পারে বিশেষ পর্যবেক্ষণে। জ্বর বা নিউমোনিয়ার উপসর্গ ধরা পড়লে সরাসরি পাঠানো হবে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। আর তা না হলে সেই যাত্রীদের পাঠানো হবে মানেসরের আইসোলেশন ইউনিটে।
সেনা সূত্রে খবর, চিন-ফেরত যাত্রীদের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এই আইসোলেশন ইউনিটে প্রস্তুত রয়েছেন অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সরা। চিকিৎসার সব সরঞ্জামই মজুত রাখা হয়েছে সেখানে। কোনওভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে সেই সংক্রমণ যাতে বাইরে ছড়াতে না পারে তার জন্যই বিশেষভাবে বানানো হয়েছে মানেসরের ওই আইসোলেশন ইউনিটকে।


চিন থেকে ইতিমধ্যেই যাঁরা দেশে ফিরেছেন তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেরলে এক ছাত্রের শরীরে করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। যদিও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে। ভাইরাস-সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় কেরলে ঘরবন্দি ৪০০ জনেরও বেশি। সর্দি-জ্বরের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ডজনখানেক রোগী। এদিকে দিল্লিতে ভাইরাস-জনিত রোগে আক্রান্ত সন্দেহে চিন-ফেরত ছ’জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এই পাঁচজনের মধ্যে এক মহিলা (২৪) গত পাঁচ বছর ধরে চিনে ছিলেন। ২৯ জানুয়ারি দেশে ফেরার পরেই অসুস্থ হন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ভর্তি করা হয় আরএমএল হাসপাতালে। বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি যিনি দেশে ফিরেছেন ২৩ জানুয়ারি, ৩৫ বছরের এক যুবক যিনি সাত বছর চিনে কাটিয়ে ফিরেছেন ২৮ জানুয়ারি। আরও দু’জন ছাত্র যাঁরাও ২৩-২৫ জানুয়ারির মধ্যে চিন থেকে দেশে ফিরেছেন।
আরএমএল হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই পাঁচজনের রক্তের নমুনা পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরেই বোঝা যাবে ভাইরাসের সংক্রমণ সত্যি হয়েছে কি না।
সার্স ও মার্সের পরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সঙ্কট বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, শুক্রবারের হিসেবে ভাইরাস-জনিত রোগে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২১৩। আক্রান্ত ১০ হাজারেরও বেশি। ভাইরাস সংক্রমণ ভয়ানক আকার ধারণ করায় মঙ্গলবার থেকে দেশের সমস্ত স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেল পরিষেবা। হুবেই থেকে আসা মানুষদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করেছে বেজিং ও সাংহাই। হুবেই, উহান-সহ দেশের ১৮টি শহরকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজি টেডরস অ্যাডানম গ্রেবিসাস আজ বলেছেন, “বিশ্বের সব দেশকেই সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে সেইসব দেশের দিকে যেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ রোখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।”
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, চিনে বসবাসকারী অধিকাংশ ভারতীয়ই হয় ছাত্র, নয়তো গবেষণার জন্য গিয়েছেন। তাঁদের বিশেষ সুরক্ষা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যাপারেও যথেষ্টই কড়া ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের ২১টি বিমানবন্দরে চলছে থার্মাল-স্ক্রিনিং। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিন-ফেরত যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখার দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও। মুম্বই, দিল্লি, পুণে, কলকাতা-সহ দেশের সব মেট্রো শহরগুলিতেই ভাইরাস-সংক্রমণ রোখার জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে তৈরি হয়েছে স্পেশাল টিম। কাজেই দেশে যাতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, তার জন্য প্রায় সব ব্যবস্থাই পাকা।