পাঁচ বছরে দেশজুড়ে নিহত ৪০ সাংবাদিক, আক্রান্ত ১৯৮! সামনে এল চমকে ওঠার মতো রিপোর্ট
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ বছরে এ দেশে খুন হয়েছেন অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক। ভয়াবহ ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৮ জন। এমনই তথ্য সামনে এল সম্প্রতি।
ঠাকুর ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থার তরফে দুই সাংবাদিক ঊর্বশী সরকার এবং গীতা শেশু দুই সাংবাদিক সারা দেশে
শেষ আপডেট: 25 December 2019 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ বছরে এ দেশে খুন হয়েছেন অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক। ভয়াবহ ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৮ জন। এমনই তথ্য সামনে এল সম্প্রতি।
ঠাকুর ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থার তরফে দুই সাংবাদিক ঊর্বশী সরকার এবং গীতা শেশু দুই সাংবাদিক সারা দেশের সমস্ত সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনাগুলি এক জায়গায় করেছেন। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। গিয়েছেন নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের কাছেও। কয়েক মাস ধরে গবেষণা চালানোর পরে যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন, তাতেই উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য।
ভারতীয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয় সংবাদমাধ্যমকে। অথচ গত পাঁচ বছরে সেই সংবাদমাধ্যমের উপরেই একের পর এক আঘাত নেমে এসেছে! ওই রিপোর্টে উল্লেখ আছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যে ১৯৮ জন সাংবাদিকের উপর হামলা হয়েছে, তার মধ্যে শুধু ২০১৯ সালেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন।
গবেষক ঊর্বশীর কথায়, ''এই রিপোর্ট যখন প্রকাশ করা হল, তখন আগুন জ্বলছে সারা দেশে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তোলপাড় চলছে রাজ্যে রাজ্যে। তখনও একের পর এক ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে চলেছেন সাংবাদিকরা। আমরা এই কাজটা করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, গত ৫ বছরে ভারতে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ বহু মাত্রায় বেড়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাফিয়া, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতারা সব চেয়ে বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়েছেন।''
এখানেই শেষ নয়। রিপোর্টে যা যা তথ্য সামনে এসেছে, সে সব আরও অনেকটা বেশি আশঙ্কার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিহত ৪০ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৩৬ জন সাংবাদিকই নিহত হয়েছেন রাস্তায় নেমে কাজ করার সময়। তাঁদের মদ্যে কয়েক জন বিভিন্ন তদন্তমূলক সংবাদের কাজ করছিলেন। অর্থাৎ পেশাদার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই চরমতম বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।
তার চেয়েও বেশি আশ্চর্যের বিষয় হল, এত খুন এত আক্রমণ সত্ত্বেও কার্যত কেউ বিচার পাননি। রিপোর্ট বলছে, ৬৩টি এ ধরনের ঘটনার মধ্যে এফআইআর নিতে পুলিশ রাজি হয়েছে মাত্র ২৫টি ক্ষেত্রে! যার মধ্যে তদন্ত সামান্য হলেও এগিয়েছে ৭টি মামলায়। ১৮টি মামলা ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। যে মামলাগুলি এগিয়েছে, সেগুলিও চার্জশিট গঠন হওয়ার পরে বন্ধ হয়ে গেছে নানারকম অজ্ঞাত কারণে।
ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, প্রতিটা মামলাতেই অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও ধনী। আর যে সমস্ত ঘটনায় সাংবাদিকরা পুলিশ এবং প্রশাসনের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন, সে সব ক্ষেত্রে কোনও মামলাই রুজু করা হয়নি। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরও সেই ঘটনাগুলি নথিভুক্ত করেনি।
আরও একটি চমকে দেওয়ার মতো বিষয় সামনে এসেছে এই রিপোর্টে। যে সমস্ত আক্রান্তের পরিবারের সঙ্গে উর্বশী ও গীতা কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পরে আক্রান্ত সাংবাদিকের সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থাগুলি পাশে থাকলেও, মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে আর সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না তারা।
সাংবাদিক মহল বলছে, যত দিন যাচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবর ছড়ানোর প্রবণতাও তত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পেশাদার সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ ক্ষেত্রে সহজেই লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন নির্ভীক সাংবাদিকরা। বাকস্বাধীনতা রুখতে এমনটাই বারবার ঘটেছে সম্প্রতি।