
শেষ আপডেট: 21 October 2022 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯০তম বর্ষে আবার পুরনো রূপে ফিরল কাশীপুর কল্পতরু সেবা সমিতির (Kalpataru Seva Samity) কালীপুজো (Maa Kali)। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, এখানেই হয় কলকাতার সবথেকে বড় কালীপুজো। বিজ্ঞাপনের চমক নেই ঠিকই, তবে এখানকার শ্যামাপ্রতিমা সত্যিই বেশ বড়। এবার যার উচ্চতা ৪০ ফুট (40 feet)।

সিঁথির মোড়ের (Sinthi More) কাছেই এই ক্লাবের ৩৫ ফুট কালীপ্রতিমা দেখতে একসময় মণ্ডপে ভিড় জমাতেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। তবে গত কয়েক বছরে প্রতিমার উচ্চতা কমে গিয়েছিল। কখনও পুলিশি অনুমতি নিয়ে ঝঞ্ঝাট, কখনও আবার করোনা ও লকডাউনের জের- সবমিলিয়ে প্রায় ৬-৭ বছর বেশ ম্রিয়মান হয়ে গিয়েছিল এখানকার পুজো।
এই বিষয়ে ক্লাব সদস্যদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, 'দর্শনার্থীরা ঠাকুর দেখতে এসে অভিযোগ জানাতেন কেন আর বড় কালী হচ্ছে না! সত্যিই বেশ কিছু সমস্যা ছিল বড় ঠাকুর বানানোয়। আমাদেরও ইচ্ছা ছিল আবার আগের মতো প্রতিমা হোক। বলা যেতে পারে, সবার ইচ্ছাতেই আবার কল্পতরুর বড় কালী ফিরে এলো। আর এবার আগের থেকেও অনেক বড় হয়ে মা ফিরেছেন।'

গতবছর এখানকার শ্যামাপ্রতিমার উচ্চতা ছিল প্রায় ২৩ ফুট। এবার তা একলাফে হয়ে গিয়েছে ৪০। আসলে আগে যেই ৩৫ ফুট উচ্চতার প্রতিমা হতো, এবার সেটাকেই টপকে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন ক্লাব সদস্যরা। বলা যেতে পারে, সেই কাজে তাঁরা ১০০ শতাংশ সফল। এত বড় ঠাকুর বানানোর ঝক্কিও তো কম নয়। দিনকে দিন বাড়ছে কাঁচামালের দাম, এদিকে লকডাউনের জেরে বাজারের অবস্থাও বেশ খারাপ। তারমধ্যেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের এই চ্যালেঞ্জ সত্যিই তারিফ যোগ্য।

এই পুজোর বিশেষত্ব হল, মায়ের আবাহন যেখানে, বিসর্জনও সেখানেই। প্রতিমা তৈরি হয় ক্লাব মাঠে। উল্টোরথের দিন মায়ের কাঠামো পুজো হয়ে যায়। তারপর লক্ষ্মীপুজো মিটতেই শুরু হয়ে যায় প্রতিমা তৈরির কাজ। আবার একেবারে নিয়ম মেনে ভাইফোঁটার পরদিন মাঠের পাশে বড় পুকুরেই ক্রেনে ঝুলিয়ে বিসর্জন হয় প্রতিমার। কারণ এত বড় প্রতিমা নিয়ে রাস্তায় শোভাযাত্রা বের করার পুলিশি অনুমতি মেলেনি কখনোই। এবং সেটা প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার। অগত্যা ভরসা সেই ক্লাবেরই পুকুর।
আজও কালীপুজোর রাতে শ্রীরামকৃষ্ণদেব পূজিত হন ভবতারিণী রূপে, জানেন কোথায়?